অংশ ৫: আয় পরিগণনা · পঞ্চম অধ্যায়: ব্যবসা বা পেশা হইতে আয়
ধারা ৫১ — কুঋণ ব্যয় অনুমোদন
Income Tax Act, 2023 · Section 51
আইনের মূল পাঠ
৫১। (১) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-
(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;
(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হইয়া থাকে;
(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।
(২) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-
১[(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS) ও বাংলাদেশে প্রযোজ্য আইন, বিধি ও প্রবিধি অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;]
(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়;
(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
অনাদায়ী পাওনা বা কুঋণ খরচ হিসেবে বাদ দেওয়া যায় তিনটি শর্তে: পাওনাটা আদায় হবে না বলে চূড়ান্ত হয়ে খাতায় অবলোপন করা হয়েছে, আদায়ের সব যৌক্তিক চেষ্টা করা হয়েছে, আর পাওনাটা আগে কোনো বছরে আয় হিসেবে ধরা হয়েছিল।
মনে রাখুন
- সাধারণ ব্যবসা: কুঋণ চূড়ান্ত ও খাতায় অবলোপিত, আদায়ের যৌক্তিক চেষ্টা করা, আর আগে আয়ে ধরা।
- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: একই তিন শর্ত। তবে চূড়ান্ত হতে হবে IAS, IFRS আর বাংলাদেশের প্রযোজ্য আইন, বিধি ও প্রবিধি অনুযায়ী।
- যে টাকা কখনো আয়ে ধরা হয়নি (যেমন কাউকে দেওয়া ব্যক্তিগত ধার), তা কুঋণ হিসেবে বাদ যাবে না।
উদাহরণ
- ১একটি পাইকারি দোকান ২০২৩–২৪ সালে একজন ক্রেতার কাছে ২,০০,০০০ টাকার মাল বাকিতে বিক্রি করে বিক্রিটা আয়ে দেখিয়েছে।
- ২ক্রেতা দেউলিয়া হয়ে গেছে। উকিল নোটিশ ও মামলার চেষ্টা করেও টাকা আদায় হয়নি। দোকান খাতায় পাওনাটা অবলোপন করল।
- ৩তিন শর্তই পূরণ হয়েছে, তাই ২,০০,০০০ টাকা কুঋণ হিসেবে বাদ যাবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
আদায়ের চেষ্টার কাগজ রাখুন: তাগাদার চিঠি, উকিল নোটিশ, মামলার কপি। প্রমাণ ছাড়া কুঋণের দাবি টেকে না।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দফা (ক) অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এখন কুঋণ চূড়ান্ত হতে হবে IAS, IFRS আর প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী।
