অংশ ৫: আয় পরিগণনা · চতুর্থ অধ্যায়: কৃষি হইতে আয়
ধারা ৪১ — বিশেষ কৃষি আয়
Income Tax Act, 2023 · Section 41
আইনের মূল পাঠ
৪১। (১) ধারা ৪০ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ কৃষি আয় গণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) কোনো পরিসম্পদ করদাতার ধারা ৪০ এর কৃষিকাজে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হইলে তাহা নিম্নবর্ণিতভাবে পরিগণিত হইবে, যথা:-
ক্রমিক নং | বিক্রয়লব্ধ অর্থ | আয় হিসাবে বিবেচিত অর্থের পরিমাণ |
(১) | (২) | (৩) |
১। | বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় | ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে; খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার “কৃষি হইতে আয়” শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
২। | বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় | ক-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার “কৃষি হইতে আয়” শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
(৩) কোনো আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক তাহার কৃষিকাজে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত পরিসম্পদের অবলোপিত মূল্যের অধিক হইলে উক্ত অর্থ নিম্নবর্ণিতভাবে কৃষি হইতে আয় খাতে অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
ক্রমিক নং | বিক্রয়লব্ধ অর্থ | আয় হিসাবে বিবেচিত অর্থের পরিমাণ |
(১) | (২) | (৩) |
১। | বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় | ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে; খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘কৃষি হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
(১) | (২) | (৩) |
২। | বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় | ক-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘কৃষি হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
ক = পরিসম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ,
খ= পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং
গ= তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,
-কে বুঝাইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ‘কৃষি হইতে আয়’ খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
১[(৬) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) এই আইনের অংশ ৭ এর বিধান অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন সম্পর্কিত বিধান পরিপালন না করিলে, যে পরিমাণ কম কর কর্তন বা সংগ্রহ বা পরিশোধ করা হইয়াছে সেই পরিমাণ এবং তাহার অতিরিক্ত ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) কর প্রদেয় হইবে;
(খ) এই আইনের অংশ ৭ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন, সংগ্রহ ইত্যাদি ব্যর্থতার ফলাফলস্বরূপ ধারা ১৪৩ এর আওতায় গৃহিত কার্যক্রমের ফলে পরিশোধিত কর, দফা (ক) এ উল্লিখিত কর অপেক্ষা কম হইলে, যেই পরিমাণ কম হইবে, সেই পরিমাণ কর এবং উহার ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অতিরিক্ত কর প্রদেয় হইবে; এবং
(গ) ধারা ৫৫ অনুযায়ী অননুমোদনযোগ্য বিয়োজন, কৃষি হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত হইবে।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
কৃষিকাজে ব্যবহৃত কোনো সম্পদ (যেমন ট্রাক্টর বা পাম্প) বিক্রি করলে, বা নষ্ট হয়ে বিমা বা ক্ষতিপূরণ পেলে, কত টাকা আয় ধরা হবে তার নিয়ম। কেনা দামের বেশি অংশ মূলধনি আয়, আর অবচয়ের পর বাকি মূল্যের বেশি অংশ কৃষি আয়।
মনে রাখুন
- ক = বিক্রিমূল্য বা বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণের টাকা; খ = কেনা দাম; গ = অবচয়ের পর বাকি মূল্য (অবলোপিত মূল্য)।
- ক যদি খ এর বেশি হয়: (ক − খ) মূলধনি আয়, আর (খ − গ) কৃষি আয়।
- ক যদি খ এর বেশি না হয় কিন্তু গ এর বেশি হয়: (ক − গ) কৃষি আয়।
- ক যদি গ এর চেয়েও কম হয়: পার্থক্যটা কৃষির খরচ হিসেবে বাদ যাবে।
- উৎসে কর কাটার নিয়ম না মানলে, যত কম কাটা হয়েছে সেই টাকা আর তার উপর ৫০% অতিরিক্ত কর দিতে হবে। ধারা ৫৫ অনুযায়ী অননুমোদিত খরচ কৃষি আয় হিসেবে গণ্য হবে।
উদাহরণ: ট্রাক্টর বিক্রি
- ১জনাব কাদের ৮,০০,০০০ টাকায় একটি ট্রাক্টর কিনেছিলেন। অবচয়ের পর এখন অবলোপিত মূল্য ৫,০০,০০০ টাকা।
- ২তিনি ট্রাক্টরটি ৯,০০,০০০ টাকায় বিক্রি করলেন। বিক্রিমূল্য কেনা দামের চেয়ে বেশি।
- ৩মূলধনি আয় = ৯,০০,০০০ − ৮,০০,০০০ = ১,০০,০০০ টাকা।
- ৪কৃষি আয় = ৮,০০,০০০ − ৫,০০,০০০ = ৩,০০,০০০ টাকা।
- ৫যদি বিক্রি করতেন ৬,০০,০০০ টাকায়, তাহলে শুধু কৃষি আয় = ৬,০০,০০০ − ৫,০০,০০০ = ১,০০,০০০ টাকা।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
কৃষি যন্ত্রপাতির কেনার রসিদ আর প্রতি বছরের অবচয়ের হিসাব রাখুন। বিক্রির সময় এগুলো ছাড়া সঠিক হিসাব করা যায় না।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
উপ-ধারা (৬) অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। উৎসে কর না কাটলে এখন কম কাটা কর আর তার উপর ৫০% অতিরিক্ত কর দিতে হয় (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)।
