অংশ ৭: কর পরিশোধ · প্রথম অধ্যায়: নিবাসী হইতে কর কর্তন
ধারা ৮৬ — চাকরির আয় হইতে উৎসে কর কর্তন
Income Tax Act, 2023 · Section 86
আইনের মূল পাঠ
৮৬। (১) কোনো প্রাপককে "চাকরি হইতে আয়" খাতের অধীন কোনো চাকরির অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্ত অর্থ পরিশোধের সময়, উক্ত খাতের অধীন প্রাপকের ১[প্রাক্কলিত] মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।
২[***]
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা আয়নকারী ও ব্যয়নকারী কর্মকর্তা (ডিডিও) হিসাবে কার্য সম্পাদন করিয়াছেন বা সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে "চাকরি হইতে আয়" উত্তোলন করিবার জন্য নিজের বা অন্য কোনো সরকারি অধীনস্তের জন্য বিল প্রস্তুত বা স্বাক্ষর করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত বিল তৈরি বা স্বাক্ষরের সময়, উক্ত আয়বর্ষের জন্য প্রদেয় বার্ষিক বেতন যদি করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাহা হইলে উক্ত আয়বর্ষের আনুমানিক মোট আয়ের জন্য প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর অধীন কোনো কর্তনের সময়, ৩[চলতি আয়বর্ষের] কোনো উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সহিত সমন্বয়ের জন্য উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সমপরিমাণ অর্থ বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যাইবে।
(৫) যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন প্রদেয় অগ্রিম করসহ, এই ধারার অধীন ইতোমধ্যে উৎসে কর প্রদান করা হইয়াছে এবং কোনো কর্মচারীর সম্ভাব্য মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর উক্তরূপে প্রদেয় করের পরিমাণের কাছাকাছি বলিয়া বিবেচিত হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত কর্মচারী কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদন এবং প্রদত্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অবশিষ্ট আয়বর্ষের জন্য এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র জারি করিতে পারিবেন যে, উক্ত কর্মচারীর নিকট হইতে কোনো কর কর্তন করা হইবে না বা কম হারে কর কর্তন করা হইবে।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৪–২৫“প্রাক্কলিত” শব্দটি “আনুমানিক” শব্দটির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ৩৫(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ২২০২৪–২৫উপ-ধারা (২) অর্থ আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৫ নং আইন) এর ৩৫(খ) ধারাবলে বিলুপ্ত যাহা ২০২৪ সনের ১ জুলাই হইতে কার্যকর।
- ৩২০২৫–২৬“চলতি আয়বর্ষের” শব্দগুলি “পূর্ববর্তী” শব্দের পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ৬১ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
চাকরিজীবীর বেতন দেওয়ার সময় নিয়োগকর্তাকে প্রতি মাসে উৎসে কর কাটতে হয়। হার হলো কর্মচারীর পুরো বছরের সম্ভাব্য (প্রাক্কলিত) বেতন আয়ের উপর যে কর আসে, তার গড় হার।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১বছরের শুরুতে নিয়োগকর্তা হিসাব করবেন কর্মচারীর পুরো বছরে চাকরি থেকে কত আয় হতে পারে, আর সেই আয়ে কত কর আসে।
- ২সেই করকে মোট আয় দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় গড় হার। প্রতি মাসে বেতন দেওয়ার সময় সেই হারে কর কেটে রাখবেন। সহজভাবে, বছরের মোট কর ১২ মাসে ভাগ করে কাটা।
- ৩সরকারি অফিসে যিনি বেতন বিল তৈরি বা সই করেন (আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা বা ডিডিও), বার্ষিক বেতন করমুক্ত সীমার বেশি হলে তিনি বিল তৈরির সময়েই গড় হারে কর কাটবেন।
- ৪বছরের মাঝে বেতন বাড়লে বা বোনাস এলে হিসাব বদলায়। চলতি আয়বর্ষে আগে বেশি বা কম কাটা হয়ে থাকলে, পরের মাসগুলোতে কর্তনের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে সমন্বয় করা যায়।
- ৫কোনো কর্মচারীর ইতিমধ্যে যথেষ্ট কর কাটা হয়ে গেলে (অগ্রিম করসহ), তিনি প্রমাণ দিয়ে উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারেন। তখন বছরের বাকি সময়ে কর না কাটা বা কম হারে কাটার প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়।
মনে রাখুন
- কে কাটবেন: নিয়োগকর্তা। প্রতিষ্ঠান হলে প্রতিষ্ঠান ও তার মুখ্য কর্মকর্তা।
- হার: বছরের প্রাক্কলিত চাকরির আয়ের উপর করের গড় হার।
- চলতি বছরের বেশি বা কম কর্তন পরের মাসে সমন্বয় করা যায়।
- বেশি কর কাটা হয়ে গেলে কম বা শূন্য কর্তনের প্রত্যয়নপত্র নেওয়া যায়।
উদাহরণ ১: মাসিক কর্তন
- ১তানিয়া আপার বছরের প্রাক্কলিত করযোগ্য বেতন আয় ১২,০০,০০০ টাকা।
- ২ধরা যাক চলতি করহারে এই আয়ে বছরে কর আসে ৬০,০০০ টাকা। গড় হার = ৬০,০০০ ÷ ১২,০০,০০০ = ৫%।
- ৩প্রতি মাসে বেতন থেকে কাটা হবে মোটামুটি ৬০,০০০ ÷ ১২ = ৫,০০০ টাকা।
উদাহরণ ২: বছরের মাঝে বোনাস
- ১মার্চ মাসে তানিয়া আপা ২,০০,০০০ টাকা পারফরম্যান্স বোনাস পেলেন। বছরের মোট আয় বেড়ে হলো ১৪,০০,০০০ টাকা।
- ২নতুন হিসাবে বছরের কর বেড়ে গেল। এ পর্যন্ত যা কাটা হয়েছে তা বাদ দিয়ে বাকি করটা মার্চ থেকে জুন, এই ৪ মাসে ভাগ করে কাটা হবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
চাকরিজীবী হিসেবে বছরের শুরুতে আপনার বিনিয়োগ রেয়াতের পরিকল্পনা অফিসকে জানিয়ে দিন। তাহলে মাসিক কর্তন সঠিক হয়, আর বছর শেষে বড় অঙ্ক দিতে হয় না। জুলাই মাসে আগের বছরের কর্তনের সনদ (ধারা ১৪৫) নিয়ে নিন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৪ “আনুমানিক” শব্দের জায়গায় “প্রাক্কলিত” লিখেছে আর উপ-ধারা (২) বিলুপ্ত করেছে। অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ সমন্বয়কে “পূর্ববর্তী” নয়, “চলতি আয়বর্ষের” উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সাথে করেছে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
বেতনভোগীদের কাছ থেকে কর আদায়ের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া (PAYE)। এতে বছর শেষে বড় অঙ্কের চাপ থাকে না, আর রাজস্ব সারা বছর সমানভাবে আসে। গড় হারের পদ্ধতি নিশ্চিত করে যে বছরের মোট কর ১২ মাসে ভাগ হয়। চলতি বছরের ভেতরে সমন্বয়ের সুযোগ (অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬) বেতন পরিবর্তন, বোনাস আর বিনিয়োগ রেয়াতের বাস্তবতা মেনে নেয়।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
নিয়োগকর্তার উৎসে কর রিটার্ন (ধারা ১৭৭) আর কর্মচারীদের রিটার্নের বেতন তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। কম কাটা হলে নিয়োগকর্তা ধারা ১৪৩ অনুযায়ী দায়ী, আর কর্মচারীর রিটার্নে বেতন কম দেখানো থাকলে তারও সমস্যা হয়।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
পে-রোলে বছরের শুরুতে প্রতিটি কর্মচারীর প্রাক্কলিত আয়, করমুক্ত অংশ (ষষ্ঠ তফসিল), বিনিয়োগ রেয়াতের পরিকল্পনা আর প্রাক্কলিত কর বের করুন। বোনাস, ইনক্রিমেন্ট বা পারকুইজিট বদলালে বাকি মাসগুলোর কর্তন পুনর্গণনা করুন।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
কর্মচারী হিসেবে বছরের শুরুতে বিনিয়োগ ঘোষণা দিলে মাসিক কর্তন কম হয় এবং নগদ প্রবাহ ভালো থাকে। কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী বিনিয়োগ না করলে বছর শেষে ঘাটতি দিতে হবে।
সাধারণ ভুল
- বোনাস মাসে পুরো বছরের কর একবারে কেটে ফেলা, বা একদম না কাটা।
- পারকুইজিট (যেমন গাড়ি সুবিধা) কর্তনের হিসাবে না ধরা।
- কর্মচারীকে বছর শেষে কর্তনের সনদ না দেওয়া।
করণীয় চেকলিস্ট
- বছরের শুরুতে প্রতিটি কর্মচারীর কর প্রাক্কলন।
- মাসিক কর্তন জমা ও চালান সংরক্ষণ।
- বছর শেষে কর্মচারীদের সনদ প্রদান।
- উৎসে করের রিটার্ন দাখিল।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
