অংশ ৪: আয়কর ধার্যকরণ · প্রথম অধ্যায়: কর ধার্যকরণের ভিত্তি
ধারা ২২ — সংরক্ষিত আয় (retained earnings), সঞ্চিতি (reserve), উদ্বৃত্ত (surplus), ইত্যাদির উপর কর আরোপ
Income Tax Act, 2023 · Section 22
আইনের মূল পাঠ
১[২২। এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো আয়বর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত (incorporated) এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর পরবর্তী নিট আয়ের ৩০% (ত্রিশ শতাংশ) এর কম লভ্যাংশ প্রদান করে, তাহা হইলে উক্ত কর পরবর্তী নিট আয়ের ৩০% (ত্রিশ শতাংশ) এবং বিতরণকৃত লভ্যাংশের পার্থক্যের ১০% (দশ শতাংশ) হারে অতিরিক্ত কর প্রদেয় হইবে এবং উক্ত কর পরিশোধ করা না হইলে, উপকর কমিশনার এই ধারার অধীন নোটিশ প্রদানপূর্বক উপযুক্ত শুনানির সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে কর নির্ধারণ করিবেন।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি তার কর-পরবর্তী নিট আয়ের ৩০% এর কম লভ্যাংশ দিলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। হার হলো নিট আয়ের ৩০% আর বিতরণ করা লভ্যাংশের পার্থক্যের উপর ১০%।
মনে রাখুন
- প্রযোজ্য: কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীন নিগমিত তালিকাভুক্ত কোম্পানি।
- প্রযোজ্য নয়: তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি।
- হিসাব: (কর-পরবর্তী নিট আয়ের ৩০% − বিতরণকৃত লভ্যাংশ) × ১০%।
- কর না দিলে উপকর কমিশনার নোটিশ ও শুনানি দিয়ে কর নির্ধারণ করবেন।
উদাহরণ: হিসাব
- ১একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট আয় ১০০ কোটি টাকা। এর ৩০% = ৩০ কোটি টাকা।
- ২কোম্পানি লভ্যাংশ দিল ২০ কোটি টাকা। পার্থক্য = ৩০ − ২০ = ১০ কোটি টাকা।
- ৩অতিরিক্ত কর = ১০ কোটির ১০% = ১ কোটি টাকা।
- ৪কোম্পানি যদি ৩০ কোটি বা তার বেশি লভ্যাংশ দিত, তাহলে এই ধারায় কোনো অতিরিক্ত কর হতো না।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
লভ্যাংশ ঘোষণার আগে বোর্ড সভায় এই হিসাবটা করে নিন। কম লভ্যাংশ দিলে কত অতিরিক্ত কর আসবে, সেটা জেনেই সিদ্ধান্ত নিন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
পুরো ধারা ২২ অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে নতুন করে লেখা হয়েছে (১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর)।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
তালিকাভুক্ত কোম্পানির মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের হাতে গেলে বাজার সক্রিয় থাকে এবং শেয়ারহোল্ডার পর্যায়ে লভ্যাংশের উপর কর আদায় হয়। কোম্পানি মুনাফা জমিয়ে রাখলে দুটোই কমে। এই ধারা ন্যূনতম ৩০% লভ্যাংশ বিতরণে উৎসাহ দেয়, আর কম দিলে ঘাটতির উপর ১০% অতিরিক্ত কর বসায়। ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানিকে বাদ রাখা হয়েছে, কারণ তাদের মূলধন সংরক্ষণের বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা আছে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী থেকে কর-পরবর্তী নিট আয় আর ঘোষিত বা বিতরণকৃত লভ্যাংশ মিলিয়ে হিসাব করা হয়। কর না দিলে অর্থ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নোটিশ ও শুনানির পর কর নির্ধারণ হবে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
ব্যাখ্যার বিষয়: “কর পরবর্তী নিট আয়” কোন সংখ্যা (একক নাকি একীভূত বিবরণী), আর “লভ্যাংশ প্রদান” বলতে ঘোষণা নাকি প্রকৃত বিতরণ। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী আর বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভাষা স্পষ্ট রাখুন।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
বোর্ড সভার আগে একটি সিমুলেশন করুন: বিভিন্ন লভ্যাংশ হারে অতিরিক্ত কর কত আসে, আর তার তুলনায় লভ্যাংশ বাড়ালে কোম্পানির নগদ প্রবাহে কী প্রভাব পড়ে।
বোর্ডের সিদ্ধান্তের তুলনা
- ১কর-পরবর্তী নিট আয় ৫০ কোটি টাকা। ৩০% = ১৫ কোটি টাকা।
- ২বিকল্প ক: ১০ কোটি লভ্যাংশ দিলে অতিরিক্ত কর = (১৫ − ১০) × ১০% = ৫০ লক্ষ টাকা।
- ৩বিকল্প খ: ১৫ কোটি লভ্যাংশ দিলে অতিরিক্ত কর শূন্য, কিন্তু আরও ৫ কোটি টাকা নগদ বেরিয়ে যায়।
- ৪সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কোম্পানির নগদ প্রয়োজন, বিনিয়োগ পরিকল্পনা আর শেয়ারহোল্ডারের প্রত্যাশার উপর।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
