অংশ ৪: আয়কর ধার্যকরণ · প্রথম অধ্যায়: কর ধার্যকরণের ভিত্তি
ধারা ২৩ — স্টক লভ্যাংশের উপর কর আরোপ
Income Tax Act, 2023 · Section 23
আইনের মূল পাঠ
১[২৩। এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো আয়বর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীন নিগমিত এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশ ঘোষিত বা বিতরণকৃত নগদ লভ্যাংশকে অতিক্রম করে অথবা নগদ লভ্যাংশ ব্যতীত কেবল স্টক লভ্যাংশের ঘোষণা বা বিতরণ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত আয়বর্ষে কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর প্রদেয় হইবে এবং উক্ত কর পরিশোধ করা না হইলে, উপকর কমিশনার এই ধারার অধীন নোটিশ প্রদানপূর্বক উপযুক্ত শুনানির সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে কর নির্ধারণ করিবেন।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
কোনো কোম্পানির ঘোষিত বা বিতরণ করা স্টক লভ্যাংশ (বোনাস শেয়ার) যদি নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি হয়, অথবা শুধু স্টক লভ্যাংশ দেওয়া হয়, তাহলে পুরো স্টক লভ্যাংশের উপর ১০% কর দিতে হবে।
মনে রাখুন
- প্রযোজ্য নয়: স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি। কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীন নিগমিত অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- শর্ত: স্টক লভ্যাংশ > নগদ লভ্যাংশ, অথবা নগদ লভ্যাংশ একদমই নেই।
- কর = ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশের ১০%।
- কর না দিলে উপকর কমিশনার নোটিশ ও শুনানি দিয়ে কর নির্ধারণ করবেন।
উদাহরণ: কখন কর হয়, কখন হয় না
- ১কোম্পানি ক: নগদ লভ্যাংশ ৫ কোটি, স্টক লভ্যাংশ ৮ কোটি টাকা। স্টক বেশি, তাই কর = ৮ কোটির ১০% = ৮০ লক্ষ টাকা।
- ২কোম্পানি খ: নগদ লভ্যাংশ নেই, শুধু ৩ কোটি টাকার স্টক লভ্যাংশ। কর = ৩ কোটির ১০% = ৩০ লক্ষ টাকা।
- ৩কোম্পানি গ: নগদ ১০ কোটি, স্টক ৬ কোটি টাকা। স্টক নগদের চেয়ে কম, তাই এই ধারায় কর নেই।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
বোনাস শেয়ার ঘোষণার আগে নগদ আর স্টক লভ্যাংশের অনুপাত মিলিয়ে দেখুন। সামান্য নগদ লভ্যাংশ বাড়ালেই হয়তো এই করের আওতার বাইরে থাকা যায়।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
পুরো ধারা ২৩ অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে নতুন করে লেখা হয়েছে (১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর)।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
স্টক লভ্যাংশ (বোনাস শেয়ার) দিলে শেয়ারহোল্ডারের হাতে নগদ যায় না, কোম্পানির মুনাফা কোম্পানিতেই থেকে যায়। এতে নগদ লভ্যাংশের উপর যে কর আদায় হতো তা পিছিয়ে যায়, আর শেয়ারের সংখ্যা বাড়িয়ে অনেক সময় দাম প্রভাবিত করা হয়। এই ধারা স্টক লভ্যাংশ নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি হলে, বা শুধু স্টক লভ্যাংশ দিলে, স্টক লভ্যাংশের উপর ১০% কর বসিয়ে নগদ লভ্যাংশকে উৎসাহিত করে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক আর নগদ লভ্যাংশের অঙ্ক তুলনা করা হয়। স্টক বেশি হলে পুরো স্টক লভ্যাংশের ১০% কর দাবি করা হয়, শুধু বাড়তি অংশের নয়।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
এই ধারা তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি ছাড়া কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীন নিগমিত অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতালিকাভুক্ত কোম্পানি আওতায় পড়ে কিনা, তা ধারার ভাষা ধরে দেখতে হবে।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
নগদ লভ্যাংশ স্টক লভ্যাংশের সমান বা বেশি রাখলে এই কর এড়ানো যায়। তাই বোনাস শেয়ারের পরিকল্পনা করলে পাশাপাশি সমান বা বেশি নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সামর্থ্য আছে কিনা দেখুন।
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
