অংশ ৯: রিটার্ন, বিবরণী এবং দলিলাদি · প্রথম অধ্যায়: রিটার্ন এবং বিবরণী
ধারা ১৭০ক — রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি
Income Tax Act, 2023 · Section 170a
আইনের মূল পাঠ
১[১৭০ক। (১) রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ সকল ব্যক্তি ধারা ১৭০ এ উল্লিখিত সময়ে কর মামলা নিষ্পত্তির জন্য রিটার্ন দাখিল করিবেন।
(২) স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ধারা ১৮০-তে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে কর নির্ধারণের জন্য রিটার্ন দাখিল করিবে।
(৩) যে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার শুধু চাকরি হইতে আয়, আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় ও কৃষি হইতে আয় রহিয়াছে, তাহাদের ক্ষেত্রে ধারা ১৮০-তে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে কর নির্ধারণের জন্য দাখিলকৃত রিটার্নে কর প্রত্যর্পণ সৃষ্টি হইলে, ধারা ২১৫-তে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ও সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যর্পণ (automated refund) প্রদান করা হইবে।
(৪) স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ব্যতীত, অন্য সকল করদাতা ধারা ১৮০-তে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে কর নির্ধারণের জন্য অথবা উপকর কমিশনার কর্তৃক ধারা ১৮৩-তে কর নির্ধারণের জন্য রিটার্ন দাখিল করিতে পারিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত ক্ষেত্র ব্যতীত, অন্য সকল করদাতার ধারা ১৮০-তে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে কর নির্ধারণের জন্য দাখিলকৃত রিটার্নে কর প্রত্যর্পণ প্রদর্শিত হওয়ার প্রেক্ষিতে, উক্ত দাখিলকৃত রিটার্নটি, উপকর কমিশনার কর্তৃক ধারা ১৮৩-তে কর নির্ধারণের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হইবে।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
অর্থ আইন, ২০২৬ এ যোগ হওয়া নতুন ধারা: রিটার্ন কোন পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হবে। স্বাভাবিক ব্যক্তির রিটার্ন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে (ধারা ১৮০)। যাদের শুধু চাকরি, আর্থিক পরিসম্পদ (সুদ, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি) আর কৃষির আয়, তাদের রিটার্নে ফেরত পাওনা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত (automated refund)। অন্যদের ফেরত দাবি থাকলে রিটার্ন উপকর কমিশনারের কর নির্ধারণে যাবে।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): রিটার্ন দিতে বাধ্য সবাই ধারা ১৭০ এর সময়ের মধ্যে কর মামলা নিষ্পত্তির জন্য রিটার্ন দেবেন।
- ২উপ-ধারা (২): স্বাভাবিক ব্যক্তি রিটার্ন দেবেন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে (ধারা ১৮০)। অর্থাৎ আপনি নিজে আয় ও কর হিসাব করে রিটার্ন দেন, আর সেটাই কর নির্ধারণ হিসেবে গণ্য হয়, যদি না পরে অডিট বা অন্য কারণে প্রশ্ন ওঠে।
- ৩উপ-ধারা (৩), স্বয়ংক্রিয় ফেরত: যার আয় শুধু চাকরি, আর্থিক পরিসম্পদ আর কৃষি থেকে, তার স্বনির্ধারণী রিটার্নে ফেরত পাওনা দেখালে ধারা ২১৫ এর পদ্ধতি ও সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে। আলাদা আবেদন বা কর নির্ধারণের ঝামেলা নেই।
- ৪উপ-ধারা (৪): স্বাভাবিক ব্যক্তি ছাড়া অন্যরা (কোম্পানি, ফার্ম ইত্যাদি) চাইলে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে (ধারা ১৮০), নয়তো উপকর কমিশনারের কর নির্ধারণের (ধারা ১৮৩) জন্য রিটার্ন দিতে পারবেন।
- ৫উপ-ধারা (৫): উপ-ধারা (৩) এর ক্ষেত্র ছাড়া, অন্য কেউ স্বনির্ধারণী রিটার্নে ফেরত পাওনা দেখালে সেই রিটার্ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপকর কমিশনারের কর নির্ধারণের (ধারা ১৮৩) জন্য বিবেচিত হবে। অর্থাৎ ফেরত দেওয়ার আগে কর্মকর্তা যাচাই করবেন।
মনে রাখুন
- স্বাভাবিক ব্যক্তি: স্বনির্ধারণী পদ্ধতি (ধারা ১৮০)।
- শুধু বেতন + আর্থিক পরিসম্পদ + কৃষির আয় থাকলে ফেরত স্বয়ংক্রিয় (ধারা ২১৫)।
- অন্যরা: স্বনির্ধারণী বা উপকর কমিশনারের কর নির্ধারণ, বেছে নিতে পারেন।
- অন্য ক্ষেত্রে ফেরত দাবি থাকলে রিটার্ন কর নির্ধারণে (ধারা ১৮৩) যাবে।
উদাহরণ ১: চাকরিজীবীর স্বয়ংক্রিয় ফেরত
- ১নুসরাত একটি ব্যাংকে চাকরি করেন, তার আর আয় শুধু এফডিআরের সুদ আর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা। বছরে উৎসে কাটা হয়েছে ৯০,০০০ টাকা, কিন্তু রেয়াতসহ তার প্রকৃত কর ৭৫,০০০ টাকা।
- ২রিটার্নে ১৫,০০০ টাকা ফেরত পাওনা দেখালে উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী ধারা ২১৫ এর পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।
উদাহরণ ২: বাড়িভাড়ার আয় থাকলে
- ১নুসরাতের যদি বাড়িভাড়ার আয়ও থাকত, তাহলে তিনি আর উপ-ধারা (৩) এর তিন খাতের মধ্যে থাকতেন না।
- ২তখন রিটার্নে ফেরত দাবি করলে উপ-ধারা (৫) অনুযায়ী রিটার্নটি উপকর কমিশনারের কর নির্ধারণে (ধারা ১৮৩) যাবে, আর যাচাইয়ের পর ফেরত।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
ফেরত দাবি করার আগে উৎসে কাটা প্রতিটি করের সনদ মিলিয়ে নিন। স্বয়ংক্রিয় ফেরত সহজ, কিন্তু ভুল দাবি পরে অডিটে ধরা পড়লে ঝামেলা বাড়ে।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে নতুন সন্নিবেশিত ধারা (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
স্বাভাবিক ব্যক্তির জন্য স্বনির্ধারণীকে মূল পথ বানানো, আর কম ঝুঁকির করদাতার (শুধু বেতন, আর্থিক পরিসম্পদ ও কৃষি আয়, যার বেশিরভাগ তথ্য তৃতীয় পক্ষ থেকে যাচাইযোগ্য) ফেরত স্বয়ংক্রিয় করা, এই দুই নীতিতে ধারাটি গড়া। অন্য ক্ষেত্রে ফেরত দাবি থাকলে রিটার্ন সরাসরি কর্মকর্তার কর নির্ধারণে যায়, কারণ সেখানে রাজস্ব ঝুঁকি বেশি। এটা ঝুঁকিভিত্তিক কর প্রশাসনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
স্বয়ংক্রিয় ফেরতের ক্ষেত্রে উৎসে কর দাবি সরকারি কোষাগারে জমা ও কর্তনকারীর উৎসে কর রিটার্নের সাথে মেলানো হবে। কোনো আয় এই তিন খাতের বাইরে পড়লে (যেমন বাড়িভাড়া, ব্যবসা, মূলধনি মুনাফা) ফেরত দাবি ধারা ১৮৩ এর কর নির্ধারণে যাবে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
“আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” কোন কোন আয় অন্তর্ভুক্ত করে, তা আয়ের খাতের সংজ্ঞা থেকে দেখতে হবে। উপ-ধারা (৪) অন্য করদাতাদের বিকল্প দিয়েছে, কিন্তু উপ-ধারা (৫) ফেরত দাবির ক্ষেত্রে সেই বিকল্প কার্যত সীমিত করে।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
যাদের আয় এই তিন খাতে সীমিত, তাদের জন্য ফেরত পাওয়া এখন সহজতম। ছোট অন্য আয় (যেমন সামান্য ভাড়া) যোগ হলে স্বয়ংক্রিয় ফেরতের সুবিধা হারানোর বিষয়টি মাথায় রাখুন, তবে সেই আয় লুকানো কোনো বিকল্প নয়।
সাধারণ ভুল
- তিন খাতের বাইরের আয় থাকা সত্ত্বেও স্বয়ংক্রিয় ফেরত আশা করা।
- উৎসে কাটা করের সনদ না মিলিয়ে ফেরত দাবি করা।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
