অংশ ৯: রিটার্ন, বিবরণী এবং দলিলাদি · প্রথম অধ্যায়: রিটার্ন এবং বিবরণী
ধারা ১৭০ — রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা
Income Tax Act, 2023 · Section 170
আইনের মূল পাঠ
১[১৭০। (১) স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতা নিম্নবর্ণিত সারণির শর্তানুযায়ী আয়বর্ষ সমাপ্তি পরবর্তী সংশ্লিষ্ট করবর্ষব্যাপী ধারা ১৭০ক-তে বর্ণিত পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) নিম্নসারণিতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতা নিম্নবর্ণিত হারে কর প্রণোদনা প্রাপ্ত হইবেন বা অতিরিক্ত কর পরিশোধ করিবেন, যথা:-
ক্রমিক | রিটার্ন দাখিলের সময় | কর প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর |
(১) | (২) | (৩) |
১। | ১ জুলাই হইতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত | দ্রুত রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতা ধারা ১৭৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পরিশোধযোগ্য করের ৫% (পাঁচ শতাংশ) অথবা ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা যাহা কম সেই পরিমাণ কর প্রণোদনা পাইবেন। |
২। | ১ অক্টোবর হইতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত | প্রণোদনা অথবা অতিরিক্ত কর কোনোটিই প্রযোজ্য নহে। |
৩। | ১ জানুয়ারী হইতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত | বিলম্বে রিটার্ন দাখিলের জন্য ধারা ১৭৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পরিশোধযোগ্য করের ২% (দুই শতাংশ) অথবা ৩ (তিন) হাজার টাকা, যাহা অধিক সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হইবে। |
৪। | ১ এপ্রিল হইতে ৩০ জুন পর্যন্ত | বিলম্বে রিটার্ন দাখিলের জন্য ধারা ১৭৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পরিশোধযোগ্য করের ৫% (পাঁচ শতাংশ) অথবা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা, যাহা অধিক সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হইবে। |
(খ) পূর্বে কখনোই রিটার্ন দাখিল করেন নাই এইরূপ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা সংশ্লিষ্ট কর বর্ষের জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করিয়া আয়বর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ৩০ জুন তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করিতে পারিবেন;
(গ) বিদেশে অবস্থানরত কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে, তাহার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দিন হইতে ৯০ (নব্বই) তম দিনের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করিবেন, যদি উক্তরূপ ব্যক্তি-
(অ) উচ্চ শিক্ষার জন্য ছুটিতে অথবা চাকরির জন্য প্রেষণে বা লিয়েনে নিযুক্ত হইয়া বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করেন; বা
(আ) অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসা এবং পারমিটধারী হয়ে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করেন।
(২) স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত, অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা হইবে আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী নবম মাসের পনেরোতম দিন অথবা, যেক্ষেত্রে উক্ত পনেরোতম দিন সেপ্টেম্বর মাসের পনেরোতম দিনের পূর্বের তারিখে পড়ে, সেইক্ষেত্রে আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী সেপ্টেম্বর মাসের পনেরোতম দিন, তবে, নিম্ন সারণিতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতা নিম্নবর্ণিত হারে কর প্রণোদনা প্রাপ্ত হইবেন বা অতিরিক্ত কর পরিশোধ করিবেন, যথা:-
ক্রমিক | রিটার্ন দাখিলের সময় | কর প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর |
(১) | (২) | (৩) |
১ | করদাতার রিটার্ন দাখিলের এই উপ-ধারায় বর্ণিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইবার ২ (দুই) মাস পূর্বে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে | দ্রুত রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতা ধারা ১৭৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পরিশোধযোগ্য করের ৫% (পাঁচ শতাংশ) অথবা ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা, যাহা কম, সেই পরিমাণ কর প্রণোদনা পাইবেন। |
২ | ১ নং ক্রমিকে বর্ণিত সময়সীমার পর, তবে এই উপ-ধারায় বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে | প্রণোদনা অথবা অতিরিক্ত কর কোনোটিই প্রযোজ্য নহে। |
৩ | এই উপ-ধারায় বর্ণিত রিটার্ন দাখিলের সময়সীমার পরে সংশ্লিষ্ট করবৎসরের অবশিষ্ট সময়কালের মধ্যে | বিলম্বে রিটার্ন দাখিলের জন্য ধারা ১৭৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পরিশোধযোগ্য করের ২% (দুই শতাংশ) অথবা ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা, যাহা বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হইবে। |
(৩) যদি উপ-ধারা (১) এর দফা (ক), (খ) ও (গ) এবং উপ-ধারা (২) এর সারণিতে উল্লিখিত দিন সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহা হইলে উক্ত দিনের অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
অর্থ আইন, ২০২৬ রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। স্বাভাবিক ব্যক্তি এখন পুরো করবছর (১ জুলাই থেকে ৩০ জুন) জুড়ে রিটার্ন দিতে পারবেন, তবে কখন দিচ্ছেন তার উপর প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নির্ভর করবে: ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিলে প্রণোদনা, ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু নেই, জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত কর। কোম্পানিসহ অন্যদের জন্য আলাদা সময়সূচি।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১কারা উপ-ধারা (১) এর আওতায়: স্বাভাবিক ব্যক্তি আর হিন্দু অবিভক্ত পরিবার। তারা আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরের করবছর জুড়ে ধারা ১৭০ক এর পদ্ধতিতে রিটার্ন দিতে পারবেন।
- ২সারণি, চারটি সময়ভাগ: ১ জুলাই–৩০ সেপ্টেম্বর: দ্রুত দাখিলের প্রণোদনা, পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ২৫,০০০ টাকা, যেটা কম। ১ অক্টোবর–৩১ ডিসেম্বর: প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর কোনোটাই নেই। ১ জানুয়ারি–৩১ মার্চ: অতিরিক্ত কর, পরিশোধযোগ্য করের ২% বা ৩,০০০ টাকা, যেটা বেশি। ১ এপ্রিল–৩০ জুন: অতিরিক্ত কর, পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি।
- ৩“পরিশোধযোগ্য কর” মানে ধারা ১৭৩(২) এর হিসাব: রিটার্ন অনুযায়ী মোট কর (বা টার্নওভার কর, যেটা বেশি) থেকে উৎসে কাটা ও অগ্রিম কর বাদ দিয়ে যা থাকে, অর্থাৎ রিটার্নের সাথে যা দিতে হবে।
- ৪নতুন করদাতার সুবিধা (দফা খ): যিনি আগে কখনো রিটার্ন দেননি, তিনি প্রযোজ্য হারে কর দিয়ে আয়বর্ষ শেষের পরের ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবেন।
- ৫বিদেশে থাকা ব্যক্তি (দফা গ): উচ্চশিক্ষার ছুটিতে, প্রেষণে বা লিয়েনে বিদেশে থাকলে, অথবা বৈধ ভিসা ও পারমিট নিয়ে উপার্জনের জন্য বিদেশে থাকলে, দেশে ফেরার দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দেবেন।
- ৬কোম্পানিসহ অন্যরা (উপ-ধারা ২): সময়সীমা আয়বর্ষ শেষের পরের নবম মাসের ১৫ তারিখ। সেই তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে পড়লে সময়সীমা ১৫ সেপ্টেম্বর। জুলাই–জুন আয়বর্ষের কোম্পানির ক্ষেত্রে এটা পরের বছরের ১৫ মার্চ; জানুয়ারি–ডিসেম্বর আয়বর্ষ হলে ১৫ সেপ্টেম্বর।
- ৭কোম্পানিসহ অন্যদের সারণি: সময়সীমার অন্তত ২ মাস আগে দিলে প্রণোদনা, পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ২৫,০০০ টাকা, যেটা কম; তারপর সময়সীমার মধ্যে দিলে কিছু নেই; সময়সীমার পরে করবছরের বাকি সময়ে দিলে অতিরিক্ত কর, ২% বা ২৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি।
- ৮ছুটির দিন (উপ-ধারা ৩): কোনো শেষ তারিখ সরকারি ছুটির দিনে পড়লে পরের কর্মদিবস পর্যন্ত সময় থাকবে।
- ৯করবছর শেষ হয়ে গেলে কী হবে: তখন রিটার্ন “বিলম্ব রিটার্ন” এবং ধারা ১৭৪ এর আরও বেশি অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য।
মনে রাখুন
- ব্যক্তি: ১ জুলাই–৩০ সেপ্টেম্বর দিলে প্রণোদনা (৫% বা ২৫,০০০, যেটা কম)।
- ব্যক্তি: ১ অক্টোবর–৩১ ডিসেম্বর, প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নেই।
- ব্যক্তি: জানুয়ারি–মার্চ ২% বা ৩,০০০ (যেটা বেশি); এপ্রিল–জুন ৫% বা ৫,০০০ (যেটা বেশি)।
- প্রথমবার রিটার্নদাতা: পরের ৩০ জুন পর্যন্ত।
- বিদেশে থাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তি: দেশে ফেরার ৯০ দিনের মধ্যে।
- কোম্পানি: আয়বর্ষ শেষের পরের নবম মাসের ১৫ তারিখ (কমপক্ষে ১৫ সেপ্টেম্বর)।
- শেষ দিন ছুটি হলে পরের কর্মদিবস।
উদাহরণ ১: একই করদাতা, চার সময়ে
- ১রাশেদের আয়বর্ষ ২০২৫–২৬ এর মোট কর ৬০,০০০ টাকা, বেতন থেকে উৎসে কাটা হয়েছে ২০,০০০ টাকা। তাই পরিশোধযোগ্য কর = ৪০,০০০ টাকা। তিনি করবর্ষ ২০২৬–২৭ এ রিটার্ন দেবেন।
- ২৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে দিলে: ৪০,০০০ এর ৫% = ২,০০০ টাকা, যা ২৫,০০০ এর চেয়ে কম, তাই প্রণোদনা ২,০০০ টাকা।
- ৩১ অক্টোবর–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে দিলে: শুধু ৪০,০০০ টাকা, বাড়তি কিছু নেই।
- ৪১ জানুয়ারি–৩১ মার্চ ২০২৭ এর মধ্যে দিলে: ৪০,০০০ এর ২% = ৮০০, কিন্তু ৩,০০০ টাকা বেশি, তাই অতিরিক্ত কর ৩,০০০ টাকা।
- ৫১ এপ্রিল–৩০ জুন ২০২৭ এর মধ্যে দিলে: ৫% = ২,০০০, কিন্তু ৫,০০০ টাকা বেশি, তাই অতিরিক্ত কর ৫,০০০ টাকা।
উদাহরণ ২: বড় করদাতার প্রণোদনার সীমা
- ১একজন ব্যবসায়ীর পরিশোধযোগ্য কর ১০,০০,০০০ টাকা। তিনি আগস্টে রিটার্ন দিলেন।
- ২১০ লক্ষের ৫% = ৫০,০০০ টাকা, কিন্তু সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা (যেটা কম)। তাই প্রণোদনা ২৫,০০০ টাকা।
- ৩একই ব্যক্তি মে মাসে দিলে: ৫% = ৫০,০০০ টাকা, যা ৫,০০০ এর চেয়ে বেশি, তাই অতিরিক্ত কর ৫০,০০০ টাকা। সময়ের পার্থক্যে মোট ৭৫,০০০ টাকার ফারাক।
উদাহরণ ৩: কোম্পানির সময়সূচি
- ১XYZ Ltd. এর আয়বর্ষ ১ জুলাই ২০২৫–৩০ জুন ২০২৬। নবম মাস মার্চ ২০২৭, তাই সময়সীমা ১৫ মার্চ ২০২৭।
- ২১৫ জানুয়ারি ২০২৭ বা তার আগে (সময়সীমার ২ মাস আগে) দিলে প্রণোদনা: পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ২৫,০০০ টাকা, যেটা কম।
- ৩১৫ জানুয়ারির পর কিন্তু ১৫ মার্চের মধ্যে দিলে কিছু নেই।
- ৪১৫ মার্চের পর ৩০ জুন ২০২৭ এর মধ্যে দিলে অতিরিক্ত কর: ২% বা ২৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি। তার পরে দিলে ধারা ১৭৪।
উদাহরণ ৪: উচ্চশিক্ষায় বিদেশে
- ১ডা. ফারহানা সরকারি ছুটি নিয়ে পিএইচডি করতে জাপানে ছিলেন, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ দেশে ফিরলেন।
- ২দফা (গ) অনুযায়ী ফেরার দিন থেকে ৯০তম দিনের মধ্যে, অর্থাৎ মে ২০২৭ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত, তিনি রিটার্ন দেবেন।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
সবচেয়ে লাভজনক হলো ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দেওয়া: প্রণোদনা পাবেন। তা না পারলে অন্তত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দিন, তাহলে কোনো অতিরিক্ত কর নেই। জানুয়ারি থেকে প্রতিটি মাস দেরিতে খরচ বাড়ে।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
পুরো ধারা ১৭০ অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে নতুন করে লেখা (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)। স্বাভাবিক ব্যক্তির জন্য একক “কর দিবস” এর বদলে করবছরব্যাপী চার ধাপের প্রণোদনা ও অতিরিক্ত করের সারণি, আর কোম্পানিসহ অন্যদের সময়সীমা আয়বর্ষ শেষের পরের নবম মাসের ১৫ তারিখ।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
আগের একক “কর দিবস” ব্যবস্থায় সব রিটার্ন একসাথে শেষ মুহূর্তে জমা পড়ত, অফিসে চাপ তৈরি হতো, আর তারিখ পার হলেই কঠিন পরিণতি। নতুন ধারা ১৭০ সময়কে স্তরে ভাগ করে আচরণগত প্রণোদনা দিয়েছে: আগে দিলে পুরস্কার, মাঝামাঝি নিরপেক্ষ, দেরিতে ক্রমবর্ধমান অতিরিক্ত কর। এতে রিটার্ন জমা সারা বছর ছড়িয়ে পড়বে, শুরুর দিকে রাজস্ব আসবে, আর ছোট দেরির জন্য বড় শাস্তি এড়ানো যাবে। বিদেশে থাকা পেশাজীবী ও নতুন করদাতার জন্য আলাদা সময় দিয়ে বাস্তব প্রতিবন্ধকতা স্বীকার করা হয়েছে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
প্রণোদনা ও অতিরিক্ত কর হিসাবের ভিত্তি ধারা ১৭৩(২) এর “পরিশোধযোগ্য কর”। তাই উৎসে কর বেশি দাবি করে পরিশোধযোগ্য কর কমিয়ে দেখানোর প্রবণতা যাচাই করা হবে। দাখিলের তারিখ নির্ধারণে ধারা ১৭৬(৪) গুরুত্বপূর্ণ: নোটিশ মেনে সম্পূর্ণ করলে মূল তারিখ বহাল থাকে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
কয়েকটি ব্যাখ্যার প্রশ্ন: (১) পরিশোধযোগ্য কর শূন্য বা ঋণাত্মক (ফেরত) হলে ২% বা ৩,০০০ টাকার “যাহা অধিক” নিয়মে আক্ষরিকভাবে ৩,০০০ টাকা আসে, এর প্রয়োগ নিয়ে NBR এর ব্যাখ্যা দেখুন; (২) প্রণোদনা কীভাবে সমন্বয় বা প্রদান হবে, তা ফরম বা নির্দেশনায় নির্ধারিত হবে; (৩) দফা (খ) এর “পূর্বে কখনোই রিটার্ন দাখিল করেন নাই” প্রমাণের ভার করদাতার। উপ-ধারা (৩) এ শুধু “সরকারি ছুটির দিন” বলা আছে, যেখানে ধারা ১৭৭ এ “সাপ্তাহিক বা সরকারি” বলা; সাপ্তাহিক ছুটির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
ক্লায়েন্টদের তিন দলে ভাগ করুন: সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত (প্রণোদনার যোগ্য), ডিসেম্বরের মধ্যে (নিরপেক্ষ), আর জটিল ফাইল। কোম্পানির ক্লায়েন্টদের জন্য নিরীক্ষা সময়সূচি এমনভাবে ঠিক করুন যাতে সময়সীমার ২ মাস আগে রিটার্ন দেওয়া যায়, কারণ প্রণোদনা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা হলেও দেরির অতিরিক্ত কর ন্যূনতম ২৫,০০০ টাকা।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
বড় পরিশোধযোগ্য করের ক্ষেত্রে প্রণোদনার সীমা ২৫,০০০ টাকা, কিন্তু অতিরিক্ত করের কোনো উচ্চসীমা নেই। তাই বড় করদাতার জন্য দেরির ঝুঁকি অসম। অগ্রিম কর ঠিকমতো দিয়ে পরিশোধযোগ্য কর ছোট রাখলে দেরির অতিরিক্ত করও ছোট থাকে।
জটিল উদাহরণ: কোম্পানির দুই সারণির তুলনা
- ১একটি কোম্পানির পরিশোধযোগ্য কর ২০,০০,০০০ টাকা। সময়সীমার ২ মাস আগে দিলে প্রণোদনা ৫% = ১,০০,০০০, কিন্তু সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা।
- ২সময়সীমার পরে করবছরের মধ্যে দিলে অতিরিক্ত কর ২% = ৪০,০০০ টাকা (২৫,০০০ এর চেয়ে বেশি)।
- ৩করবছর পার হলে ধারা ১৭৪(২) অনুযায়ী ১০% = ২,০০,০০০ টাকা। আগে দেওয়া আর অনেক দেরিতে দেওয়ার মধ্যে মোট ফারাক ২,২৫,০০০ টাকা।
সাধারণ ভুল
- পুরোনো অভ্যাসে ৩০ নভেম্বরকে শেষ তারিখ ভেবে বসে থাকা, অথচ এখন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দিলে প্রণোদনা আর ৩১ ডিসেম্বরের পরে অতিরিক্ত কর।
- কোম্পানির সময়সীমা পুরোনো নিয়মে হিসাব করা (এখন নবম মাসের ১৫ তারিখ)।
- রিটার্ন দিলেও কর না দেওয়া, ফলে ধারা ১৭৩(৪) অনুযায়ী খেলাপি।
করণীয় চেকলিস্ট
- নিজের শ্রেণি (ব্যক্তি বা অন্য) ঠিক করুন।
- ধারা ১৭৩(২) অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য কর হিসাব করুন।
- কোন সময়ভাগে দিচ্ছেন তা দেখে প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর হিসাব করুন।
- শেষ দিন ছুটি কিনা দেখুন।
প্রশ্নোত্তর
আমার রিটার্নে কর ফেরত পাওনা। দেরিতে দিলে কি অতিরিক্ত কর লাগবে?
আইনের ভাষায় জানুয়ারি–মার্চে “২% অথবা ৩,০০০ টাকা, যাহা অধিক”। পরিশোধযোগ্য কর শূন্য হলে আক্ষরিকভাবে ৩,০০০ টাকা আসতে পারে। এর প্রয়োগ নিয়ে NBR এর নির্দেশনা দেখুন; নিরাপদ পথ হলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দেওয়া।
আমি প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছি। প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর কি প্রযোজ্য?
দফা (খ) অনুযায়ী আপনি প্রযোজ্য হারে কর দিয়ে আয়বর্ষ শেষের পরের ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দিতে পারেন। দফা (ক) এর সারণি আপনার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে NBR এর ব্যাখ্যা দেখে নিন; সময়ের মধ্যে আগে দেওয়াই ভালো।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
