Skip to content

অংশ ৯: রিটার্ন, বিবরণী এবং দলিলাদি · প্রথম অধ্যায়: রিটার্ন এবং বিবরণী

ধারা ১৭২ — বিশেষ পরিস্থিতিতে রিটার্ন দাখিল

Income Tax Act, 2023 · Section 172

আইনের মূল পাঠ

১[১৭২। নিম্নবর্ণিত বিশেষ পরিস্থিতিতে উপকর কমিশনারের নোটিশের প্রেক্ষিতে করদাতা এই ধারার অধীন রিটার্ন দাখিল করিবেন-

(ক) করদাতার দাখিলকৃত রিটার্নটি অসম্পূর্ণ বিবেচিত হইলে;

(খ) শেয়ার মার্কেটে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে, কোনো অর্থবৎসরে যদি ব্যবসা বন্ধ হয় বা ব্যবসার মালিকানা বা স্বত্ব হস্তান্তর হয় বা হস্তান্তর হইবে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে;

(গ) কোনো অর্থবৎসরে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি বাংলাদেশ ত্যাগ করিলে বা বাংলাদেশ ছাড়িয়া চলিয়া যাইবেন মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে;

(ঘ) করদাতা কোনো করবর্ষের প্রদেয় কর এড়াইয়া গেলে বা কোনো করবর্ষের রিটার্ন দাখিল না করিলে;

(ঙ) কোনো অংশীদারী ফার্মের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন হইলে;

(চ) কোনো অংশীদারী ফার্মের উত্তরসূরী হিসাবে নূতন কোনো ফার্ম সৃষ্টি করা হইলে;

(ছ) কোনো আয়বর্ষে মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির কোনো ব্যবসার উত্তরাধিকারী হইলে।]

সংশোধনী টীকা

  1. ১২০২৬–২৭ধারা ১৭২ অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১০০ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।

সহজ ভাষায় বুঝুন

মেন্টরের নোট · Unidara Associates

কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে উপকর কমিশনার নোটিশ দিয়ে রিটার্ন চাইতে পারেন, আর তখন এই ধারায় রিটার্ন দিতে হয়। যেমন রিটার্ন অসম্পূর্ণ হলে, ব্যবসা বন্ধ বা হস্তান্তর হলে, কেউ দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন মনে হলে, কর ফাঁকি বা রিটার্ন না দিলে, ফার্মের গঠন বদলালে বা ব্যবসার উত্তরাধিকার হলে।

ধাপে ধাপে বুঝি

  1. ১এটা নিজে থেকে দেওয়া রিটার্ন নয়। উপকর কমিশনারের নোটিশ পেলে তবেই এই ধারায় রিটার্ন দিতে হয়।
  2. ২(ক) দাখিলকৃত রিটার্ন অসম্পূর্ণ বিবেচিত হলে।
  3. ৩(খ) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা বছরের মাঝে বন্ধ হলে, মালিকানা হস্তান্তর হলে, বা হস্তান্তর হবে বলে যুক্তিসংগত কারণ থাকলে। উদ্দেশ্য: ব্যবসা বিলুপ্ত হওয়ার আগেই কর আদায় নিশ্চিত করা।
  4. ৪(গ) কোনো ব্যক্তি বছরের মাঝে বাংলাদেশ ছেড়ে গেলে বা চলে যাবেন বলে যুক্তিসংগত কারণ থাকলে।
  5. ৫(ঘ) কোনো বছরের প্রদেয় কর এড়িয়ে গেলে বা রিটার্নই না দিলে।
  6. ৬(ঙ) অংশীদারি ফার্মের গঠনতন্ত্র বদলালে (যেমন নতুন অংশীদার যোগ বা কেউ বের হলে)।
  7. ৭(চ) পুরোনো ফার্মের উত্তরসূরি হিসেবে নতুন ফার্ম তৈরি হলে।
  8. ৮(ছ) মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনোভাবে (যেমন কেনা বা উপহার) কেউ অন্যের ব্যবসার উত্তরাধিকারী হলে।
  9. ৯রিটার্নের সাথে কর দিতে হবে ধারা ১৭৩ অনুযায়ী, কারণ ধারা ১৭৩(১) এ ধারা ১৭২ এর রিটার্নও আছে।

মনে রাখুন

  • নোটিশ পেলে তবেই এই ধারায় রিটার্ন।
  • অসম্পূর্ণ রিটার্ন, ব্যবসা বন্ধ বা হস্তান্তর, দেশত্যাগ, কর ফাঁকি বা রিটার্ন না দেওয়া, ফার্মের পরিবর্তন, ব্যবসার উত্তরাধিকার।
  • তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানি ব্যবসা বন্ধের দফার বাইরে।

উদাহরণ ১: ব্যবসা বিক্রি

  1. ১জনাব হাবিব ডিসেম্বরে তার কাপড়ের দোকান অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দিলেন।
  2. ২উপকর কমিশনার দফা (খ) অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে বছরের শুরু থেকে বিক্রির দিন পর্যন্ত আয়ের রিটার্ন চাইতে পারেন, যাতে ব্যবসা হাতছাড়া হওয়ার আগেই কর নিষ্পত্তি হয়।

উদাহরণ ২: স্থায়ীভাবে বিদেশে যাওয়া

  1. ১একজন করদাতা মার্চে স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। দফা (গ) অনুযায়ী উপকর কমিশনার যাওয়ার আগে নোটিশ দিয়ে চলতি বছরের রিটার্ন চাইতে পারেন।
  2. ২নোটিশ পেলে সময়মতো রিটার্ন ও কর দিয়ে দিলে পরে বিদেশ থেকে জটিলতা এড়ানো যায়।

প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ

ব্যবসা বিক্রি, ফার্মের অংশীদার বদল বা স্থায়ীভাবে বিদেশ যাওয়ার আগে নিজেই একজন কর পরামর্শকের সাথে কথা বলে চলতি বছরের কর হিসাব গুছিয়ে রাখুন। নোটিশ এলে দ্রুত সাড়া দিতে পারবেন।

সাম্প্রতিক পরিবর্তন

পুরো ধারা ১৭২ অর্থ আইন, ২০২৬ দিয়ে নতুন করে লেখা (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)। “অসম্পূর্ণ রিটার্ন” আর “কর এড়ানো বা রিটার্ন না দেওয়া” এখন সরাসরি এই ধারার পরিস্থিতির তালিকায়।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে

করবর্ষ ২০২৬–২৭ অনুযায়ী

নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন

এই ধারা রাজস্ব সুরক্ষার একটি জরুরি হাতিয়ার: যখন করদাতা বা তার ব্যবসা কর প্রশাসনের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আছে (ব্যবসা বন্ধ, হস্তান্তর, দেশত্যাগ), বা রিটার্ন নিয়মিত পথে আসেনি (অসম্পূর্ণ, ফাঁকি, দাখিল নেই), তখন বছর শেষের অপেক্ষা না করে নোটিশ দিয়ে রিটার্ন আনা যায়। তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানি বাদ, কারণ তাদের নিয়ন্ত্রক তদারকি আর প্রকাশ্য তথ্য আছে।

কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে

“যুক্তিসংগত কারণ” এর ভিত্তি নথিতে রাখুন: ব্যবসা হস্তান্তরের চুক্তি, ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের আবেদন, ইমিগ্রেশন বা স্থায়ী বসবাসের তথ্য ইত্যাদি। নোটিশে কোন দফা প্রযোজ্য তা স্পষ্ট উল্লেখ করুন।

আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে

নোটিশে দফার উল্লেখ আর যুক্তিসংগত কারণের ভিত্তি না থাকলে তা চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে। দফা (ছ) এ মৃত্যুজনিত উত্তরাধিকার বাদ, তাই মৃত ব্যক্তির ব্যবসার ক্ষেত্রে আইনি প্রতিনিধির দায় সংক্রান্ত আলাদা বিধান দেখতে হবে।

কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে

ব্যবসা বিক্রি বা ফার্ম পুনর্গঠনের চুক্তিতে কর দায় কে বহন করবে তার ধারা রাখুন, আর হস্তান্তরের তারিখ পর্যন্ত হিসাব আলাদা করে বন্ধ করুন।

সাধারণ ভুল

  • দেশত্যাগের আগে নোটিশ উপেক্ষা করা, পরে বিদেশ থেকে জটিলতা।
  • ব্যবসা বিক্রির পর আগের মালিকের কর দায় নিয়ে চুক্তিতে কিছু না রাখা।

এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।

Talk to us

Tell us what you need on WhatsApp or by phone. A licensed practitioner looks at your case and gives you a fixed quote before any work starts.

01317-028002info@unidaraassociates.bd

Have a deadline coming up? Let’s get it filed.

Tell us what you need. A licensed practitioner reviews your case and sends a fixed quote before any work starts.