অংশ ১৩: রাজস্ব ফাঁকি পুনরুদ্ধার
ধারা ২১২ — কর ও অন্যান্য অঙ্ক পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া
Income Tax Act, 2023 · Section 212
আইনের মূল পাঠ
২১২। কর ও অন্যান্য অঙ্ক পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া।-(১) যদি কোনো অডিট, কর নির্ধারণ বা এই আইনের আওতায় গৃহীত কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে বা অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্রে, উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো করদাতা কোনো করবর্ষে এই আইনের আওতায় প্রদেয় কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে উপকর কমিশনার উক্ত করদাতাকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে নোটিশ জারি করিয়া:
(ক) নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের জন্য রিটার্ন এবং প্রযোজ্য বিবরণী ও দলিলাদি দাখিল করিতে বলিবেন; এবং
(খ) যেই পরিমাণ কর পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে তাহা রিটার্ন দাখিলের সময় বা তাহার পূর্বে পরিশোধের জন্য বলিবেন।
(২) উপকর কমিশনার-
(ক) নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি পূরণ হইলে, রিটার্নের একটি গ্রহণ পত্র প্রেরণ করিবেন, যথা:-
(অ) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত নোটিশে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে এবং উক্ত উপ-ধারার বিধান অনুসরণপূর্বক রিটার্ন দাখিল;
(আ) রিটার্ন দাখিলের সময়ে বা তাহার পূর্বে যে অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে তাহা পরিশোধ; এবং
(ই) যে ইস্যুর জন্য কর পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে তাহা সুস্পষ্টভাবে রিটার্নে উল্লেখ;
(খ) দফা (ক)-তে উল্লিখিত শর্তসমূহের যেকোনো একটি পূরণ করা না হইলে ধারা ১৮৩ বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ধারা ১৮৪ এর অধীন কর নির্ধারণে অগ্রসর হইবেন।
১[(২ক) ধারা ১৭৪ এর অধীন স্বপ্রণোদিতভাবে দাখিলকৃত বিলম্ব রিটার্নের ক্ষেত্রে, বেতন হইতে আয় ও আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় ব্যতীত অন্য কোনো খাতে আয় না থাকা এবং প্রদেয় কর পরিশোধ সাপেক্ষে উপকর কমিশনার রিটার্নের একটি গ্রহণপত্র প্রেরণ করিবেন, তবে উল্লিখিত শর্তসমূহ পূরণ করা না হইলে ধারা ১৮৩ বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ধারা ১৮৪ এর অধীন কর নির্ধারণে অগ্রসর হইবেন।]
(৩) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারির পূর্বে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের নিকট হইতে লিখিত অনুমোদন গ্রহণ করিবেন, যেইক্ষেত্রে-
(ক) ধারা ১৮০ এর উপ-ধারা (১) এর বিধান পরিপালনপূর্বক সংশ্লিষ্ট করবর্ষের রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে; অথবা
(খ) এই আইনের অন্য কোনো বিধানের অধীন সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কর নির্ধারণ সম্পন্ন করা হইয়াছে।
(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারি করিতে পারেন –
(ক) সংশ্লিষ্ট করবর্ষে কোনো রিটার্ন দাখিল ও কোনো কর নির্ধারণ করা না হইলে, যেকোনো সময়;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, যে করবর্ষে নোটিশ জারি করিবেন উহা হইতে পূর্বের ষষ্ঠতম করবর্ষ পর্যন্ত:
তবে শর্ত থাকে যে,
(অ) এই আইনের অধীন কোনো বিধানের আওতায় কোনো করবর্ষে নূতন করিয়া কর নির্ধারণ করা হইলে, যে করবর্ষে নূতন করিয়া কর নির্ধারণ করা হইয়াছে, সেই বৎসর সমাপ্তির পর হইতে এই ধারায় বর্ণিত মেয়াদকাল গণনা শুরু হইবে;
২[(আ) যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির অপ্রদর্শিত কোনো আয়, ব্যয় বা পরিসম্পদ যাহা দফা (খ)-তে উল্লিখিত ষষ্ঠ করবর্ষেরও অধিককাল পূর্বে অর্জিত বা ব্যয়িত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উক্ত আয়, ব্যয় বা পরিসম্পদ উক্ত ষষ্ঠতম করবর্ষে অর্জিত বা ব্যয়িত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।]
(৫) কর নির্ধারণ বা এই আইনের অধীন অন্য কোনো কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে, আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর নির্ধারণ বা অন্য কোনো কার্যক্রম কোনো মেয়াদের জন্য স্থগিত রাখলে, উক্ত মেয়াদ গণনা হইতে বাদ যাইবে।
(৬) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো কর নির্ধারণ বা কোনো আদেশ রদ, নাকচ, বাতিল বা সংশোধন করা হইলে, কার্যক্রমের যে স্তরে উক্ত রদ, নাকচ, বাতিল বা সংশোধন করা হইয়াছিল তাহার পরবর্তী স্তর হইতে সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম শুরু করিতে পারিবে, এবং এই আইনের কোনো বিধান অনুসারে ইতোমধ্যে জারীকৃত কোনো নোটিশ, পুনঃজারি অথবা ইতোমধ্যে সরবরাহকৃত বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দাখিলকৃত কোনো রিটার্ন, বিবরণী বা অন্য কোনো তথ্য পুনঃসরবরাহ বা পুনঃদাখিল করিবার প্রয়োজন হইবে না।
(৭) ইতোমধ্যে কর নির্ধারণ সম্পন্ন হইয়াছে এইরূপ কোনো করদাতার সংশ্লিষ্ট করবর্ষের উপ-ধারা (২) এর আওতায় কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত নোটিশে উল্লিখিত ইস্যুসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিতে হইবে ৩[:]
৪[তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত নোটিশে উল্লিখিত বিষয়সমূহের বাইরে এই আইনের আওতায় প্রদেয় কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে এইরূপ সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটিত হইলে তাহা পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে করদাতাকে অবহিতকরণপূর্বক উপ-ধারা (২) এর আওতায় কর নির্ধারণ করা যাইবে।]
(৮) কোনো করবর্ষে উপ-ধারা (২) এর অধীন কার্যক্রম পূর্বেই সম্পন্ন হইয়াছে কেবল এই কারণে উক্ত করবর্ষের জন্য এই ধারার অধীন কার্যক্রম গ্রহণে উপকর কমিশনারকে বারিত করিবে না।
(৯) এই ধারার উদ্দেশ্যপুরণকল্পে,-
(ক) এই আইনের আওতায় প্রদেয় কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে বলিতে বুঝাইবে, যদি-
(অ) কোনো আয় বা তাহার অংশ বিশেষের কর নির্ধারণ এড়াইয়া যাওয়া
হইয়াছে;
(আ) আয়ের পরিমাণ কম প্রদর্শন করা হইয়াছে;
(ই) রিটার্নে অতিরিক্ত লোকসান, বিয়োজন, ভাতা বা ছাড় দাবি করা
হইয়াছে;
(ঈ) কোনো আয়ের তথ্য গোপন বা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শনের মাধ্যমে বা ধারা ১৬৭ বা ১৬৮ এর অধীন দাখিলকৃত বিবরণীতে কোনো সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য গোপন বা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শন করিবার মাধ্যমে করদায় বা অন্য কোনো অঙ্কের দায় কম প্রদর্শন বা নিরূপণ করা হইয়াছে;
(উ) করযোগ্য আয় কম নিরূপিত হইয়াছে, বা প্রকৃত কর হার অপেক্ষা কম হারে আয়ের উপর কর আরোপিত হইয়াছে;
(ঊ) করযোগ্য আয়কে কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয় হিসাবে বিবেচনা করা
হইয়াছে;
(ঋ) অত্যধিক ছাড় বা লোকসান বা অবচয় ভাতা বা এই আইনের আওতায় অন্য কোনো ভাতা অনুমোদন করিয়া আয় নিরূপণ করা হইয়াছে; বা
(এ) ভিত্তি কম ধরিবার কারণে এই আইনের আওতায় প্রদেয় কর বা অন্যান্য প্রদেয় অঙ্ক কম পরিগণিত বা পরিশোধিত হইয়াছে;
(খ) সংশ্লিষ্ট করবর্ষ হইল এইরূপ করবর্ষ, যাহার ক্ষেত্রে এই আইনের আওতায় কোনো করদাতা কর্তৃক প্রদেয় কোনো অঙ্ক পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৬–২৭উপ-ধারা (২ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১২৪(ক) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২২০২৬–২৭শর্তাংশের দফা (আ) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১২৪(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২০২৫–২৬“:” চিহ্ন “।” চিহ্নের পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ১১৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ৪২০২৫–২৬শর্তাংশ অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ১১৪ ধারাবলে সন্নিবেশিত।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
অডিট, কর নির্ধারণ বা অন্য কোনো উৎসের সুনির্দিষ্ট তথ্যে উপকর কমিশনারের যদি বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে কোনো করবর্ষে কর বা অন্য প্রদেয় অঙ্ক এড়ানো হয়েছে, তিনি নোটিশ দিয়ে সেই বছরের রিটার্ন আর এড়ানো কর চাইতে পারেন। রিটার্ন ও কর না থাকলে যেকোনো সময়, অন্য ক্ষেত্রে আগের ৬ষ্ঠ করবর্ষ পর্যন্ত। নোটিশ মেনে কর দিলে গ্রহণপত্র; না মানলে ধারা ১৮৩ বা ১৮৪ এর কর নির্ধারণ।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১), নোটিশ কখন: অডিট, কর নির্ধারণ বা আইনের অন্য কার্যক্রম থেকে, বা অন্য উৎস থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে। নোটিশে NBR এর নির্ধারিত ফরমে (ক) সেই করবর্ষের রিটার্ন ও প্রযোজ্য বিবরণী-দলিল নির্দিষ্ট সময়ে দিতে, আর (খ) এড়ানো কর রিটার্নের সময় বা আগে পরিশোধ করতে বলা হয়।
- ২উপ-ধারা (২), এরপর: তিনটি শর্ত পূরণ হলে গ্রহণপত্র: (অ) নির্ধারিত সময়ে নিয়ম মেনে রিটার্ন; (আ) এড়ানো অঙ্ক রিটার্নের সময় বা আগে পরিশোধ; (ই) কোন ইস্যুতে কর এড়ানো হয়েছিল তা রিটার্নে স্পষ্ট উল্লেখ। একটিও না মানলে ধারা ১৮৩ বা ১৮৪ এর কর নির্ধারণ।
- ৩উপ-ধারা (২ক), নতুন সহজ পথ: ধারা ১৭৪ অনুযায়ী নিজে থেকে দেওয়া বিলম্ব রিটার্নে, আয় শুধু বেতন ও আর্থিক পরিসম্পদ থেকে হলে এবং প্রদেয় কর পরিশোধ করলে গ্রহণপত্র দেওয়া হবে। শর্ত না মিললে ধারা ১৮৩ বা ১৮৪।
- ৪উপ-ধারা (৩), অনুমোদন: যে বছরের রিটার্ন স্বনির্ধারণে ঠিকভাবে দাখিল হয়েছে বা কর নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে, সেই বছরের জন্য নোটিশ দিতে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের লিখিত অনুমোদন লাগবে।
- ৫উপ-ধারা (৪), কতদূর পেছনে: (ক) রিটার্ন দাখিল বা কর নির্ধারণ কোনোটাই না হয়ে থাকলে যেকোনো সময়; (খ) অন্য ক্ষেত্রে নোটিশের করবর্ষ থেকে আগের ৬ষ্ঠ করবর্ষ পর্যন্ত। নতুন করে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে সেই বছর শেষ থেকে গণনা শুরু। আর ৬ষ্ঠ করবর্ষেরও আগে অর্জিত বা ব্যয়িত অপ্রদর্শিত আয়, ব্যয় বা সম্পদ ৬ষ্ঠ করবর্ষে অর্জিত বা ব্যয়িত বলে গণ্য হবে।
- ৬উপ-ধারা (৫) ও (৬): আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম স্থগিত রাখলে সেই সময় তামাদি গণনায় বাদ যাবে। কোনো আদেশ বাতিল বা সংশোধন হলে, যে স্তরে তা হয়েছে তার পরের স্তর থেকে কার্যক্রম চলবে; আগে জারি করা নোটিশ বা দাখিল করা রিটার্ন আবার দিতে হবে না।
- ৭উপ-ধারা (৭), সীমা: আগে কর নির্ধারণ হয়েছে এমন বছরে এই ধারার কর নির্ধারণ নোটিশে উল্লিখিত ইস্যুতে সীমাবদ্ধ। তবে নোটিশের বাইরে নতুন সুনির্দিষ্ট ফাঁকির তথ্য পেলে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদনে করদাতাকে জানিয়ে তাও ধরা যাবে।
- ৮উপ-ধারা (৮): কোনো বছরে আগে এই কার্যক্রম একবার হয়ে গেলেও আবার এই ধারায় কার্যক্রম নেওয়া যায়।
- ৯উপ-ধারা (৯), “এড়ানো” মানে: আয়ের কর নির্ধারণ এড়ানো; আয় কম দেখানো; অতিরিক্ত লোকসান, বিয়োজন, ভাতা বা ছাড় দাবি; আয় গোপন বা অসত্য দেখানো, অথবা সম্পদ বিবরণী (ধারা ১৬৭) বা জীবনযাপনের ব্যয় বিবরণীতে (ধারা ১৬৮) সম্পদ, দায় বা ব্যয় গোপন বা অসত্য দেখানো; আয় কম নিরূপণ বা কম হারে কর; করযোগ্য আয়কে করমুক্ত ধরা; অত্যধিক ছাড়, লোকসান বা অবচয় অনুমোদন; বা ভিত্তি কম ধরায় কর কম হিসাব বা পরিশোধ।
- ১০সময়সীমা: নোটিশ জারির পর, নোটিশের করবর্ষ শেষের ১২ মাসের মধ্যে কর নির্ধারণ করতে হবে (ধারা ১৯৭(২))।
মনে রাখুন
- সুনির্দিষ্ট তথ্যে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে নোটিশ।
- রিটার্ন ও কর না থাকলে যেকোনো সময়; অন্যথায় আগের ৬ষ্ঠ করবর্ষ পর্যন্ত।
- ৬ষ্ঠ বছরেরও আগের অপ্রদর্শিত সম্পদ ৬ষ্ঠ বছরের বলে গণ্য।
- সম্পন্ন বছরে নোটিশে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের অনুমোদন লাগে।
- রিটার্ন + কর + ইস্যুর স্পষ্ট উল্লেখ = গ্রহণপত্র; না হলে ধারা ১৮৩/১৮৪।
- বেতন ও আর্থিক আয়ের স্বপ্রণোদিত বিলম্ব রিটার্নে কর দিলে সরাসরি গ্রহণপত্র।
উদাহরণ ১: অপ্রদর্শিত ফ্ল্যাট
- ১রেজিস্ট্রেশন অফিসের তথ্যে দেখা গেল জনাব কাদের করবর্ষ ২০২৩–২৪ এ ৬০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট কিনেছেন, কিন্তু রিটার্নে দেখাননি।
- ২তার সেই বছরের কর নির্ধারণ সম্পন্ন, তাই উপকর কমিশনার পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের লিখিত অনুমোদন নিয়ে ধারা ২১২ এর নোটিশ দিলেন।
- ৩কাদের সময়মতো সেই বছরের রিটার্ন দিয়ে ফ্ল্যাটটি দেখালেন, টাকার উৎসের অপ্রদর্শিত আয়ের কর পরিশোধ করলেন আর রিটার্নে বিষয়টি স্পষ্ট লিখলেন। ফলে তিনি গ্রহণপত্র পেলেন।
- ৪তিনি নোটিশ উপেক্ষা করলে ধারা ১৮৪ এর সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ হতে পারত।
উদাহরণ ২: অনেক পুরোনো সম্পদ
- ১করবর্ষ ২০২৬–২৭ এ জারি করা নোটিশে আগের ৬ষ্ঠ করবর্ষ পর্যন্ত ধরা যায়।
- ২কারো যদি তার চেয়েও পুরোনো সময়ে কেনা অপ্রদর্শিত জমি পাওয়া যায়, শর্তাংশ (আ) অনুযায়ী তা সেই ৬ষ্ঠ করবর্ষে অর্জিত বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ “অনেক আগে কিনেছি” বলে দায় এড়ানো যাবে না।
উদাহরণ ৩: চাকরিজীবীর দেরিতে রিটার্ন
- ১নাদিয়ার আয় শুধু বেতন আর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা। তিনি একটি বছরের রিটার্ন সময়মতো দেননি, পরে নিজে থেকে ধারা ১৭৪ অনুযায়ী বিলম্ব রিটার্ন দিলেন আর প্রদেয় কর পরিশোধ করলেন।
- ২উপ-ধারা (২ক) অনুযায়ী উপকর কমিশনার রিটার্নের গ্রহণপত্র দেবেন; আলাদা শুনানির ঝামেলা নেই।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
ধারা ২১২ এর নোটিশ পেলে নোটিশে উল্লিখিত ইস্যুগুলো ভালোভাবে বুঝে নিন। প্রকৃত ভুল থাকলে সময়মতো রিটার্ন ও কর দিয়ে ইস্যুটি স্পষ্ট লিখে নিষ্পত্তি করাই সাধারণত সবচেয়ে কম খরচের পথ। আপত্তি থাকলে পেশাদারের সাহায্যে লিখিত জবাব দিন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ (২০২৫–২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬: উপ-ধারা (৭) এ শর্তাংশ যোগ (নোটিশের বাইরের নতুন তথ্য অনুমোদনসাপেক্ষে ধরা যাবে)। অর্থ আইন, ২০২৬: নতুন উপ-ধারা (২ক) (বেতন ও আর্থিক আয়ের স্বপ্রণোদিত বিলম্ব রিটার্নে গ্রহণপত্র) আর শর্তাংশ (আ) নতুন করে লেখা (৬ষ্ঠ করবর্ষের আগের অপ্রদর্শিত আয়, ব্যয় বা সম্পদ ৬ষ্ঠ করবর্ষের বলে গণ্য)।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
স্বনির্ধারণ ব্যবস্থার “পিছনের দরজা” বন্ধ রাখা: পরে পাওয়া তথ্যে আগের বছরের এড়ানো কর পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা। কিন্তু ক্ষমতা লাগামহীন নয়: “সুনির্দিষ্ট তথ্য” ও “বিশ্বাস করিবার কারণ” এর শর্ত, সম্পন্ন বছরে উপরস্থ কর্মকর্তার অনুমোদন, ৬ করবর্ষের সীমা, আর নোটিশের ইস্যুতে কর নির্ধারণ সীমাবদ্ধ রাখা। নোটিশ মেনে কর দিলে সরাসরি গ্রহণপত্রের ব্যবস্থা স্বেচ্ছা নিষ্পত্তিকে উৎসাহ দেয়। ২০২৬ এর শর্তাংশ (আ) “পুরোনো সম্পদ” যুক্তিতে ফাঁকি টিকিয়ে রাখা ঠেকায়।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
নোটিশের আগে “সুনির্দিষ্ট তথ্য” এর উৎস ও বিশ্বাসের কারণ নথিতে লিপিবদ্ধ করুন। সম্পন্ন বছর হলে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক। নোটিশে ইস্যুগুলো নির্দিষ্টভাবে লিখুন, কারণ কর নির্ধারণ সেগুলোতেই সীমিত (উপ-ধারা ৭)। নতুন ইস্যু ধরতে পূর্বানুমোদন ও করদাতাকে জানানো লাগবে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
চ্যালেঞ্জের মূল বিষয়: (১) “সুনির্দিষ্ট তথ্য” ছিল কিনা, নাকি শুধু সন্দেহ বা মত পরিবর্তন; (২) উপ-ধারা (৩) এর অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কিনা; (৩) উপ-ধারা (৪) এর ৬ করবর্ষের সীমা মানা হয়েছে কিনা (রিটার্ন বা কর নির্ধারণ থাকলে); (৪) কর নির্ধারণ নোটিশের ইস্যুর বাইরে গেছে কিনা; (৫) ধারা ১৯৭(২) এর ১২ মাসের মধ্যে কর নির্ধারণ হয়েছে কিনা। শর্তাংশ (আ) এর গণ্য-বিধান প্রমাণের ভার কার্যত করদাতার উপর দেয়, তাই পুরোনো সম্পদের অর্জনের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
নোটিশ পেলে সংশ্লিষ্ট বছরের মূল রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী আর ব্যাংক তথ্য মিলিয়ে ইস্যুভিত্তিক একটি প্রভাব-বিশ্লেষণ বানান: কোন অংশ সঠিক অভিযোগ, কোন অংশ ব্যাখ্যাযোগ্য। গ্রহণপত্রের জন্য রিটার্নে ইস্যু “সুস্পষ্টভাবে” উল্লেখ করা শর্ত, তাই একটি আলাদা নোট সংযুক্ত করুন।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো সম্পদ বিবরণী পূর্ণাঙ্গ রাখা। ধারা ২০০ক এর ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহে জমি, গাড়ি, সঞ্চয়পত্র ও বড় আমানতের তথ্য NBR এর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়ছে, আর ৬ষ্ঠ বছরের আগের সম্পদও এখন ধরা যায়।
জটিল উদাহরণ: নোটিশের বাইরের ইস্যু
- ১নোটিশে শুধু একটি অপ্রদর্শিত ভাড়া আয়ের কথা ছিল। কর নির্ধারণ চলাকালে ব্যাংক তথ্যে আরেকটি অপ্রদর্শিত এফডিআর ধরা পড়ল।
- ২উপ-ধারা (৭) এর শর্তাংশ অনুযায়ী এফডিআর ধরতে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন নিয়ে করদাতাকে জানাতে হবে। অনুমোদন ও অবহিতকরণ ছাড়া এফডিআর যোগ করা প্রশ্নযোগ্য।
সাধারণ ভুল
- নোটিশ উপেক্ষা করা, ফলে ধারা ১৮৪ এর প্রতিকূল কর নির্ধারণ।
- রিটার্ন দিয়ে কর না দেওয়া, বা ইস্যু স্পষ্ট উল্লেখ না করা, ফলে গ্রহণপত্রের শর্ত অপূর্ণ।
- “অনেক আগের সম্পদ” যুক্তিতে নির্ভর করা, যা এখন শর্তাংশ (আ) এ কার্যকর নয়।
করণীয় চেকলিস্ট
- নোটিশের করবর্ষ, ইস্যু ও সময়সীমা চিহ্নিত করুন।
- সম্পন্ন বছর হলে অনুমোদনের কপি চান।
- ৬ করবর্ষের সীমা মিলিয়ে দেখুন।
- রিটার্ন, কর পরিশোধ আর ইস্যুর স্পষ্ট বর্ণনা একসাথে দিন।
- নোটিশের করবর্ষ শেষের ১২ মাসের মধ্যে কর নির্ধারণ হয়েছে কিনা দেখুন।
প্রশ্নোত্তর
নোটিশ মেনে কর দিলেই কি বিষয়টি শেষ?
রিটার্ন সময়মতো দিলে, এড়ানো অঙ্ক পরিশোধ করলে আর ইস্যুটি রিটার্নে স্পষ্ট উল্লেখ করলে উপকর কমিশনার গ্রহণপত্র দেবেন (উপ-ধারা ২)। তবে জরিমানা বা অন্য বিধানের প্রশ্ন আলাদাভাবে আসতে পারে কিনা, তা নির্দিষ্ট বিধান দেখে পেশাদারের সাথে যাচাই করুন।
কত বছর আগের জন্য নোটিশ আসতে পারে?
রিটার্নও দেননি, কর নির্ধারণও হয়নি এমন বছরের জন্য যেকোনো সময়। অন্য ক্ষেত্রে নোটিশের করবর্ষ থেকে আগের ৬ষ্ঠ করবর্ষ পর্যন্ত, আর তার আগের অপ্রদর্শিত সম্পদ ৬ষ্ঠ করবর্ষের বলে গণ্য হয়।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
