অংশ ১০: কর নির্ধারণ ও অডিট
ধারা ১৮৪ — সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ
Income Tax Act, 2023 · Section 184
আইনের মূল পাঠ
১৮৪। ১[(১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে করদাতার সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যেক্ষেত্রে, কোনো ব্যক্তি বিশেষ পরিস্থিতি উদ্ভবের পরিপ্রেক্ষিতে ধারা ১৭২ এর অধীন রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন; অথবা
(খ) যেক্ষেত্রে, কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ব্যতীত, দফা (খ), (গ) ও (ঘ) অনুযায়ী সংশোধিত রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন; বা
(গ) যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ১৮৩ এর উপ-ধারা (৩) বা (৪ক) বা ধারা ১৯১ বা ১৯৩ বা ২১২ এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন।
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ (Best judgement assessment)” অর্থ-
(অ) করদাতা রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল না করিলে; বা
আ) নোটিশ বা আইনগত নির্দেশনা অনুসরণ না করিলে,
এই আইনের বিধান অনুসারে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে উপকর কমিশনার কর্তৃক সরল বিশ্বাসে ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে (objectively) সম্পাদিত কোনো করদাতার যৌক্তিক অনুমানভিত্তিক কর নির্ধারণ।]
(২) প্রাপ্ত তথ্য ও বিষয়াদি বিবেচনা করিবার পর এবং মামলার আইনি ও বাস্তব দিকসমূহ যথাযথ মূল্যায়নের পর সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করা হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কর নির্ধারণী আদেশে উপকর কমিশনার কর্তৃক সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণের ভিত্তিসমূহ প্রতিফলিত থাকিবে।
(৪) উপকর কমিশনার লিখিতভাবে বা নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ আদেশ প্রদান করিবেন এবং উক্তরূপ আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তাহা করদাতাকে অবহিত করিবেন।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
করদাতা রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন না দিলে, বা নোটিশ না মানলে, উপকর কমিশনার হাতে থাকা নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে যৌক্তিক অনুমানে কর নির্ধারণ করতে পারেন। একে বলে সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ (Best judgement assessment)। এটা সরল বিশ্বাসে ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে করতে হবে, আর আদেশে ভিত্তি লিখতে হবে।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১), কখন: (ক) বিশেষ পরিস্থিতিতে ধারা ১৭২ এর রিটার্ন না দিলে; (খ) ধারা ১৭৫(১) এর দফা (খ), (গ) বা (ঘ) অনুযায়ী সংশোধিত রিটার্ন না দিলে; (গ) ধারা ১৮৩(৩) বা (৪ক), ধারা ১৯১, ১৯৩ বা ২১২ এর নোটিশ না মানলে।
- ২ব্যাখ্যা, এটা আসলে কী: রিটার্ন না দিলে বা নোটিশ ও আইনগত নির্দেশনা না মানলে, আইন অনুযায়ী পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে উপকর কমিশনারের সরল বিশ্বাসে ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে করা যৌক্তিক অনুমানভিত্তিক কর নির্ধারণ।
- ৩উপ-ধারা (২): পাওয়া তথ্য বিবেচনা করে আর মামলার আইনি ও বাস্তব দিক যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে এই কর নির্ধারণ করতে হবে।
- ৪উপ-ধারা (৩): আদেশে কোন ভিত্তিতে এই অনুমান করা হলো, তা লিখতে হবে।
- ৫উপ-ধারা (৪): আদেশ লিখিত বা ইলেকট্রনিক, আর আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে জানাতে হবে।
- ৬বাস্তব মানে: এখানে করদাতার নিজের কাগজ ছাড়াই কর নির্ধারণ হয়, তাই সাধারণত করদাতার জন্য প্রতিকূল হয়। তবে এটা ইচ্ছামতো অনুমান নয়; তথ্যভিত্তিক ও যৌক্তিক হতে হবে।
মনে রাখুন
- রিটার্ন না দিলে বা নোটিশ না মানলে প্রযোজ্য।
- নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে, সরল বিশ্বাসে ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে।
- আদেশে ভিত্তি লিখতে হবে; ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে।
উদাহরণ: নোটিশ উপেক্ষা
- ১একজন করদাতা ধারা ১৮৩ এর শুনানির নোটিশে হাজিরও হননি, কোনো কাগজও দেননি।
- ২উপকর কমিশনার ব্যাংক থেকে পাওয়া লেনদেনের তথ্য আর ট্রেড লাইসেন্সের তথ্যের ভিত্তিতে তার আয় অনুমান করে কর নির্ধারণ করলেন, আর আদেশে লিখলেন কোন তথ্য থেকে কীভাবে অনুমান করা হয়েছে।
- ৩করদাতা শুনানিতে কাগজ দিলে নিজের পক্ষে প্রকৃত আয় দেখানোর সুযোগ পেতেন; নোটিশ উপেক্ষা করায় সেই সুযোগ হারালেন।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
যেকোনো নোটিশের জবাব দিন, প্রয়োজনে সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করুন। সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক আদেশ এলে দ্রুত পেশাদারের পরামর্শ নিয়ে আপিলের সময়সীমা দেখে নিন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬: উপ-ধারা (১) নতুন করে লেখা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রের তালিকা আর “সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ” এর সংজ্ঞা যোগ।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
অসহযোগী করদাতা যেন কর ফাঁকি দিতে না পারে, সেজন্য তথ্যভিত্তিক অনুমানে কর নির্ধারণের ক্ষমতা। ২০২৬ এর সংজ্ঞায় “সরল বিশ্বাসে”, “নৈর্ব্যক্তিকভাবে” ও “নির্ভরযোগ্য তথ্য” শব্দগুলো যোগ করে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সীমা টানা হয়েছে, আর আদেশে ভিত্তি লেখা বাধ্যতামূলক।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
অনুমানের প্রতিটি অঙ্কের উৎস আদেশে লিখুন: ব্যাংক তথ্য, তৃতীয় পক্ষের প্রতিবেদন, তুলনীয় ব্যবসার হার ইত্যাদি। ভিত্তিহীন বা শাস্তিমূলক অনুমান আপিলে টেকে না।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
আপিলে দুই প্রশ্ন: (১) ধারা ১৮৪ প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত পূরণ হয়েছিল কিনা (যেমন নোটিশ যথাযথভাবে জারি ও প্রাপ্ত); (২) অনুমান নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক ও যৌক্তিক কিনা। আদেশে ভিত্তি না থাকলে উপ-ধারা (৩) লঙ্ঘন।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
যুক্তিসংগত কারণে নোটিশ মানতে না পারলে আগেই লিখিতভাবে সময় চান। সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক আদেশ সাধারণত প্রকৃত দায়ের চেয়ে বেশি হয়, আর তা বাতিল করাতে সময় ও খরচ লাগে।
সাধারণ ভুল
- নোটিশ উপেক্ষা করে পরে আপিলে সব প্রমাণ দেওয়ার পরিকল্পনা।
- আদেশের ভিত্তি না পড়ে শুধু অঙ্ক নিয়ে আপিল।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
