অংশ ১৩: রাজস্ব ফাঁকি পুনরুদ্ধার
ধারা ২১৩ — ক্রটিপূর্ণ আদেশ সংশোধনের ক্ষেত্রে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের ক্ষমতা
Income Tax Act, 2023 · Section 213
আইনের মূল পাঠ
২১৩। (১) পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার, যদি বিবেচনা করেন যে, উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ ক্রটিপূর্ণ এবং তাহা রাজস্ব স্বার্থের পরিপন্থি, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন পরিচালিত কার্যক্রমের রেকর্ড তলব ও পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া এবং যেইরূপ প্রয়োজন বিবেচনা করিবেন সেইরূপ তদন্ত করিবার বা করাইবার পর পরিস্থিতির নিরিখে তাহার বিবেচনায় যেইরূপ আদেশ প্রদান ন্যায়সংগত হইবে, সেইরূপ আদেশ জারি করাসহ কর নির্ধারণী আদেশ পরিবর্ধন বা পরিবর্তন বা বাতিল করিয়া নূতনভাবে কর নির্ধারণ করিবার জন্য আদেশ জারি করিতে পারিবেন।
(২) কোনো ঊর্ধ্বতন আয়কর কর্তৃপক্ষ ধারা ১২ এর অধীন উপকর কমিশনারের ক্ষমতা প্রয়োগ করিলে কর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন।
(৩) কোনো আদেশ জারির তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর অতিক্রন্ত হইবার পর তাহা সংশোধনের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আদেশ জারি করা যাইবে না।
(৪) ধারা ২১২ এর কোনো কিছুই, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, এই ধারার অধীন কোনো কার্যক্রম গ্রহণকে বারিত করিবে না।
(৫) এই ধারায় কোনো আদেশ ক্রটিপূর্ণ হিসাবে গণ্য হইবে যদি পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার মনে করেন যে,-
(ক) আদেশে আয়ের খাত ভুল হইয়াছে;
(খ) আদেশ জারির ক্ষেত্রে, এই আইনের কোনো বিধানের ভুল ব্যাখ্যা করা
হইয়াছে;
(গ) যাচাই করিবার আবশ্যকতা থাকা সত্ত্বেও কোনোরূপ যাচাই না করিয়া আদেশ জারি করা হইয়াছে;
(ঘ) দাবিকৃত ছাড়ের বিষয়ে কোনোরূপ তদন্ত না করিয়া ছাড় মানিয়া আদেশ জারি করা হইয়াছে;
(ঙ) আদেশে বোর্ড কর্তৃক ধারা ১০ এর অধীন জারীকৃত কোনো আদেশ, নির্দেশ বা নির্দেশনা পরিপালন বা অনুসরণ করা হয় নাই; বা
(চ) রেকর্ড হইতে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, আদেশটি ক্রটিপূর্ণ।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
উপকর কমিশনারের কোনো আদেশ ত্রুটিপূর্ণ আর রাজস্বের স্বার্থের পরিপন্থি মনে হলে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার রেকর্ড তলব করে, করদাতাকে শুনানি দিয়ে, কর নির্ধারণ বাড়াতে, বদলাতে বা বাতিল করে নতুন কর নির্ধারণের আদেশ দিতে পারেন। আদেশ জারির ৪ বছর পর আর এটা করা যায় না।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): দুই শর্ত একসাথে: আদেশ ত্রুটিপূর্ণ, এবং রাজস্ব স্বার্থের পরিপন্থি। তখন পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার রেকর্ড পরীক্ষা করে, শুনানি দিয়ে, প্রয়োজনে তদন্ত করে, ন্যায়সংগত আদেশ দিতে পারেন, যার মধ্যে কর নির্ধারণ বাড়ানো, বদলানো বা বাতিল করে নতুন কর নির্ধারণের নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত।
- ২উপ-ধারা (২): কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ধারা ১২ অনুযায়ী উপকর কমিশনারের ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকলে এই কাজ করবেন কর কমিশনার।
- ৩উপ-ধারা (৩): আদেশ জারির তারিখ থেকে ৪ বছর পার হলে এই ধারায় আর সংশোধন করা যাবে না।
- ৪উপ-ধারা (৪): ধারা ২১২ এর কার্যক্রম এই ধারার কার্যক্রমে বাধা নয়; দুটো আলাদাভাবে চলতে পারে।
- ৫উপ-ধারা (৫), কখন আদেশ “ত্রুটিপূর্ণ”: (ক) আয়ের খাত ভুল; (খ) আইনের ভুল ব্যাখ্যা; (গ) যাচাই দরকার থাকা সত্ত্বেও যাচাই না করে আদেশ; (ঘ) দাবি করা ছাড় তদন্ত না করেই মেনে নেওয়া; (ঙ) ধারা ১০ অনুযায়ী NBR এর আদেশ বা নির্দেশনা না মানা; বা (চ) রেকর্ড থেকে স্পষ্ট যে আদেশ ত্রুটিপূর্ণ।
- ৬সময়সীমা: এই ধারার আদেশ কার্যকর করে উপকর কমিশনারকে ৪৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত করাদেশ দিতে হবে (ধারা ১৯৭(৩))।
মনে রাখুন
- শর্ত: আদেশ ত্রুটিপূর্ণ এবং রাজস্ব স্বার্থের পরিপন্থি।
- শুনানি বাধ্যতামূলক।
- আদেশ জারির ৪ বছর পর নয়।
- ত্রুটির ৬টি ধরন আইনে নির্দিষ্ট।
উদাহরণ
- ১একটি কোম্পানির কর নির্ধারণে উপকর কমিশনার ৫০ লক্ষ টাকার একটি খরচ কোনো যাচাই ছাড়াই অনুমোদন করেছিলেন, যদিও কাগজপত্রে সন্দেহের কারণ ছিল।
- ২দুই বছর পর পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার রেকর্ড দেখে মনে করলেন আদেশটি দফা (গ) অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ আর রাজস্বের ক্ষতি করেছে।
- ৩কোম্পানিকে শুনানির সুযোগ দিয়ে তিনি সেই খরচের বিষয়ে নতুন করে কর নির্ধারণের নির্দেশ দিলেন। আদেশ জারির ৪ বছর পার হলে এটা আর করা যেত না।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
কর নির্ধারণের সময়ই বড় খরচ ও ছাড়ের পক্ষে পূর্ণ কাগজ জমা দিন, যাতে আদেশে যাচাইয়ের প্রমাণ থাকে। তাহলে পরে “যাচাই না করে আদেশ” যুক্তিতে মামলা খোলার সুযোগ কমে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ: নিম্নপর্যায়ের ত্রুটিপূর্ণ আদেশে রাজস্বের ক্ষতি হলে উপরস্থ কর্মকর্তা তা সংশোধন করতে পারেন। দুই শর্ত (ত্রুটি + রাজস্ব ক্ষতি), শুনানি আর ৪ বছরের সীমা করদাতাকে অনিশ্চয়তা ও খেয়ালি পুনর্বিবেচনা থেকে সুরক্ষা দেয়। “ত্রুটিপূর্ণ” এর ছয়টি নির্দিষ্ট ভিত্তি ক্ষমতার পরিধি স্পষ্ট করে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
আদেশে ত্রুটির কোন ভিত্তি (উপ-ধারা ৫ এর কোন দফা) আর রাজস্বের ক্ষতি কীভাবে, দুটোই স্পষ্ট লিখুন। শুনানির সুযোগ না দিলে আদেশ টেকে না।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
শুধু রাজস্ব ক্ষতি যথেষ্ট নয়, আদেশ ত্রুটিপূর্ণও হতে হবে; আর শুধু মতভেদ (দুটি যৌক্তিক মতের একটি গ্রহণ) সাধারণত “ত্রুটি” নয়। ৪ বছরের সীমা মূল আদেশ জারির তারিখ থেকে। দফা (গ) ও (ঘ), অর্থাৎ যাচাই বা তদন্ত না করা, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভিত্তি; তাই মূল কর নির্ধারণের রেকর্ডে যাচাইয়ের প্রমাণ থাকলে তা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
কর নির্ধারণের শুনানিতে জমা দেওয়া সব কাগজের তালিকা ও প্রাপ্তি স্বীকার রাখুন, যাতে পরে প্রমাণ করা যায় যে কর্মকর্তা যাচাই করেই আদেশ দিয়েছিলেন।
সাধারণ ভুল
- শুনানির নোটিশে মূল কর নির্ধারণের কাগজ আবার না দেখানো।
- ৪ বছরের সীমা পার হওয়া আদেশ বিনা আপত্তিতে মেনে নেওয়া।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
