অংশ ১২: তথ্য সংগ্রহ · তৃতীয় অধ্যায়: শুনানির জন্য তলব
ধারা ২১১ — শপথ, ইত্যাদি গ্রহণপূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা
Income Tax Act, 2023 · Section 211
আইনের মূল পাঠ
২১১। (১) কোনো মামলা বিচার করিবার জন্য Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর অধীন আদালতকে যে সকল ক্ষমতা প্রদান করা হইয়াছে, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, উপকর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার,কর কমিশনার, মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল), কর কমিশনার (আপিল) এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল এর নিম্নবর্ণিত বিষয়ে সেই একই ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(ক) উদঘাটন ও পরিদর্শন;
(খ) কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বাধ্যকরণ এবং শপথ গ্রহণ বা ঘোষণাপূর্বক তাহাকে পরীক্ষা করা;
গ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড (সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের অব্যবহিত পূর্বের বা পরের দলিলাদিসহ) উপস্থাপনে বাধ্য করা; এবং
(ঘ) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন গঠন করা।
(২) কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত উপকর কমিশনার কোনো তফসিলি ব্যাংকের কোনো কর্মচারীকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করিবার বা উক্ত ব্যাংকের আয় সংশ্লিষ্ট দলিলাদি উপস্থাপনে বাধ্য করিবার জন্য এই ধারার অধীন তাহার ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন না।
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যেকোনো কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে তাহার নিকট উপস্থাপিত কোনো আয় সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জব্দ করিতে পারিবেন এবং যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ মেয়াদের জন্য আটক রাখিতে পারিবেন।
(৪) উপকর কমিশনার-
(ক) কারণ রেকর্ড না করিয়া আয় সম্পর্কিত কোনো দলিলপত্র আটক করিবেন না; অথবা
(খ) মুখ্য কমিশনার বা কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, আয় সম্পর্কিত কোনো দলিলপত্র তাহার নিকট ১৫ (পনেরো) দিনের অধিক, ছুটির দিন ব্যতীত, আটক রাখিবেন না।
(৫) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো কার্যক্রম, Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 196 এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, section 193 এবং 128 এর অধীন বিচারিক কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) এই আইনের অধীন গৃহীত বা পরিচালিত কোনো কার্যধারায় আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ দেওয়ানি আদালতের আদেশ বলিয়া গণ্য হইবে।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
উপকর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার, কর কমিশনার, মহাপরিচালক (CIC), কর কমিশনার (আপিল) আর আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়ানি আদালতের মতো কিছু ক্ষমতা আছে: কাউকে হাজির করানো, শপথে জেরা, রেকর্ড উপস্থাপনে বাধ্য করা, আর সাক্ষ্য নিতে কমিশন গঠন। এখানকার কার্যক্রম বিচারিক কার্যধারা গণ্য, তাই মিথ্যা সাক্ষ্য দণ্ডনীয়।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১), দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC, 1908) ক্ষমতা: (ক) উদঘাটন ও পরিদর্শন; (খ) কাউকে হাজির হতে বাধ্য করা ও শপথে পরীক্ষা; (গ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড (সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের আগের বা পরের দলিলসহ) উপস্থাপনে বাধ্য করা; (ঘ) সাক্ষ্য নিতে কমিশন গঠন।
- ২উপ-ধারা (২), ব্যাংকের সুরক্ষা: কমিশনারের পূর্বানুমোদন ছাড়া উপকর কমিশনার কোনো তফসিলি ব্যাংকের কর্মচারীকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করাতে বা ব্যাংকের দলিল আনাতে পারবেন না।
- ৩উপ-ধারা (৩) ও (৪): উপস্থাপিত দলিল জব্দ ও আটক রাখা যায়। তবে উপকর কমিশনার কারণ লিপিবদ্ধ না করে আটক করবেন না, আর মুখ্য কমিশনার বা কমিশনারের পূর্বানুমোদন ছাড়া ছুটির দিন বাদে ১৫ দিনের বেশি আটক রাখবেন না।
- ৪উপ-ধারা (৫): এই কার্যক্রম দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) section 196 এর উদ্দেশ্যে, section 193 অনুযায়ী বিচারিক কার্যধারা গণ্য (মূল পাঠে section 128 এরও উল্লেখ আছে)। section 193 মিথ্যা সাক্ষ্যের শাস্তি সংক্রান্ত, তাই এখানে জেনেশুনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।
- ৫উপ-ধারা (৬): আয়কর কর্তৃপক্ষের দেওয়া আদেশ দেওয়ানি আদালতের আদেশ বলে গণ্য।
মনে রাখুন
- দেওয়ানি আদালতের মতো তলব, শপথ, রেকর্ড উপস্থাপন ও কমিশনের ক্ষমতা।
- ব্যাংক কর্মচারী তলবে কমিশনারের পূর্বানুমোদন।
- দলিল আটক: কারণ লিখতে হবে, অনুমোদন ছাড়া ১৫ দিনের বেশি নয়।
- কার্যক্রম বিচারিক; মিথ্যা সাক্ষ্য দণ্ডনীয় হতে পারে।
উদাহরণ
- ১একটি আপিল শুনানিতে কর কমিশনার (আপিল) একজন সাক্ষীকে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দিতে তলব করলেন। সাক্ষী হাজির হতে বাধ্য।
- ২শুনানিতে উপস্থাপিত একটি খাতা উপকর কমিশনার আটক রাখতে চাইলে কারণ লিখতে হবে, আর অনুমোদন ছাড়া ১৫ দিনের (ছুটি বাদে) বেশি রাখা যাবে না।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
কর শুনানিতে শপথে দেওয়া বক্তব্য আদালতের সাক্ষ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চিত না হলে অনুমান করে উত্তর দেবেন না; প্রয়োজনে কাগজ দেখে পরে লিখিতভাবে জানানোর সময় চান।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
কর কার্যক্রমে দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা দিয়ে সাক্ষ্য ও দলিল সংগ্রহ নিশ্চিত করা, আর বিচারিক কার্যধারার মর্যাদা দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্যকে দণ্ডনীয় করা। ব্যাংক কর্মচারী তলব আর দলিল আটকে অনুমোদন ও সময়সীমা ভারসাম্য রক্ষা করে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
দলিল আটক করলে কারণ লিপিবদ্ধ করুন; ১৫ দিনের (ছুটি বাদে) বেশি রাখতে মুখ্য কমিশনার বা কমিশনারের পূর্বানুমোদন নিন। তফসিলি ব্যাংকের কর্মচারী তলবে কমিশনারের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
আয়কর কর্তৃপক্ষের আদেশ দেওয়ানি আদালতের আদেশ গণ্য (উপ-ধারা ৬), যা পরিপালনের বাধ্যবাধকতা বাড়ায়। কারণ লিপিবদ্ধ ছাড়া দলিল আটক বা সময়সীমা পার করা প্রশ্নযোগ্য।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
শপথে জবানবন্দির আগে ক্লায়েন্টের সাথে তথ্য যাচাই করুন; অনিশ্চিত বিষয়ে লিখিতভাবে পরে জানানোর অনুমতি চান।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
