অংশ ১১: সময়ের সীমাবদ্ধতা
ধারা ১৯৭ — কর নির্ধারণে সময়ের সীমাবদ্ধতা
Income Tax Act, 2023 · Section 197
আইনের মূল পাঠ
১৯৭। ১[(১) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, নিম্নরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে কর নির্ধারণ বা রিটার্ন প্রসেস সম্পন্ন করিতে হইবে, যথা:-
(ক) ধারা ১৮১ অনুসারে রিটার্ন প্রসেসের ক্ষেত্রে যে করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে সেই করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ১২ (বারো) মাস;
(খ) যে করবর্ষে ধারা ১৮২ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অডিটের নিমিত্ত নির্বাচন বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন অডিটের নিমিত্ত অনুমোদন করা হইয়াছে সেই করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ১২ (বারো) মাস;
(গ) ধারা ১৮৩ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এর অধীন কর মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, যে করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে, সেই করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ১২ (বারো) মাস;
(ঘ) ধারা ১৮৩ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন কর মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, যে করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে, সেই করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ১২ (বারো) মাস;
(ঙ) ধারা ২৩৫ এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস পরিগণনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ৫ (পাঁচ) করবর্ষ;]
(২) ধারা ২১২ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারি করা হইলে যে ২[করবর্ষে] ধারা ২১২ এর অধীন নোটিশ জারি করা হইয়াছে ৩[সেই করবর্ষ সমাপ্তির ১২ (বারো) মাসের] মধ্যে কর নির্ধারণ করা যাইবে।
৪[(৩) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯, ২৯২, ২৯৪ বা ২৯৫ অনুসারে প্রদত্ত আদেশ, পর্যবেক্ষণ বা নির্দেশনা অথবা ধারা ৩০৪ অনুসারে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সহায়তাকারীর মতৈক্যের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে অবহিতকরণের ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে সংশোধিত করাদেশ প্রণয়ন করিয়া এইরূপ সংশোধিত আদেশ পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করিতে হইবে।]
৫[(৪) যেক্ষেত্রে কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর নির্ধারণী আদেশ সেট-এসাইড (set aside) করা হয় সেইক্ষেত্রে উক্ত সেট-এসাইড আদেশ সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে অবহিতকরণের ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কর নির্ধারণ করিতে হইবে।]
৬[(৫) যেক্ষেত্রে ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯, ২৯২, ২৯৪, ২৯৫ বা ৩০৪ এর অধীন কোনো আদেশের মাধ্যমে বা ঐকমত্যের অনুলিপির মাধ্যমে কোনো করবর্ষের জন্য করদাতার কোনো আয় মোট আয় হইতে বাদ দেওয়া হয় এবং অন্য কোনো ব্যক্তির মোট আয়ে তাহা অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহা হইলে এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, একই আদেশের অনুবর্তিক্রম বা ধারাবাহিকতায়, এইরূপ অন্য ব্যক্তির করাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।]
(৬) যেইক্ষেত্রে ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯,২৯২, ২৯৪ বা ২৯৫ এর অধীন কোনো আদেশের মাধ্যমে কোনো আয় কোনো ব্যক্তির মোট আয় হইতে বাদ দেওয়া হইয়াছে এবং তাহা অন্য ব্যক্তির আয় হিসাবে ধার্য হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে, এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, শেষোক্ত ব্যক্তির উক্তরূপ আয়ের কর নির্ধারণ উক্ত আদেশের সিদ্ধান্ত বা নির্দেশের ফলে বা তাহা কার্যকর করিবার লক্ষ্যে করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
(৭) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে উপকর কমিশনার উল্লিখিত কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রদানে ব্যর্থ হইলে উপকর কমিশনারের উক্তরূপ ব্যর্থতা অসদাচরণ মর্মে বিবেচিত হইবে।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৬–২৭উপ-ধারা (১) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৬(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২২০২৫–২৬“করবর্ষে” শব্দগুলি “বৎসরে” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ১১০(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- ৩২০২৬–২৭“সেই করবর্ষ সমাপ্তির ১২ (বারো) মাসের” শব্দগুলি, সংখ্যা ও বন্ধনী “তাহা সমাপ্তির ২ (দুই) করবর্ষের” শব্দগুলি, সংখ্যা ও বন্ধনীর পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৬(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪২০২৬–২৭উপ-ধারা (৩) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৬(গ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৫২০২৬–২৭উপ-ধারা (৪) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৬(ঘ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৬২০২৬–২৭উপ-ধারা (৫) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৬(ঙ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
কর বিভাগ অনির্দিষ্টকাল ধরে আপনার কর নির্ধারণ ঝুলিয়ে রাখতে পারে না। এই ধারা প্রতিটি ধরনের কর নির্ধারণ বা রিটার্ন প্রসেসের শেষ সময় বেঁধে দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষ শেষ হওয়ার পরের ১২ মাস, ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ে ৫ করবর্ষ। আপিল, রিভিশন বা আদালতের আদেশ কার্যকর করতে ৪৫ দিন, আর সেট-এসাইড হলে ৯০ দিন।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১), মূল সময়সীমা: (ক) রিটার্ন প্রসেস (ধারা ১৮১): যে করবর্ষে রিটার্ন দাখিল, সেই করবর্ষ শেষের পরের ১২ মাস। (খ) অডিট (ধারা ১৮২): যে করবর্ষে রিটার্ন অডিটে বাছাই বা অনুমোদিত, সেই করবর্ষ শেষের পরের ১২ মাস। (গ) কর্মকর্তার কর নির্ধারণে যাওয়া রিটার্ন (ধারা ১৮৩(১)(ক)): রিটার্ন দাখিলের করবর্ষ শেষের পরের ১২ মাস। (ঘ) বিলম্ব রিটার্ন (ধারা ১৮৩(১)(খ)): রিটার্ন দাখিলের করবর্ষ শেষের পরের ১২ মাস। (ঙ) আর্মস লেংথ প্রাইস পরিগণনা (ধারা ২৩৫): সংশ্লিষ্ট করবর্ষ শেষের পরের ৫ করবর্ষ।
- ২উপ-ধারা (২), ফাঁকির নোটিশ: ধারা ২১২(১) এর নোটিশ (কর বা অন্যান্য অঙ্ক এড়ানো) জারি হলে, যে করবর্ষে নোটিশ জারি হয়েছে সেই করবর্ষ শেষের ১২ মাসের মধ্যে কর নির্ধারণ করতে হবে। আগে এটা ছিল ২ করবর্ষ।
- ৩উপ-ধারা (৩), উচ্চতর আদেশ কার্যকর করা: পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের সংশোধন (ধারা ২১৩), কমিশনারের রিভিশন (ধারা ২৮৫), আপিলের সিদ্ধান্ত (ধারা ২৮৯), ট্রাইব্যুনালের নিষ্পত্তি (ধারা ২৯২), হাইকোর্ট বিভাগ (ধারা ২৯৪) বা আপিল বিভাগের (ধারা ২৯৫) আদেশ, অথবা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR, ধারা ৩০৪) মতৈক্যের কপি উপকর কমিশনারকে জানানোর ৪৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত করাদেশ তৈরি করতে হবে, আর তার পরের ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে জানাতে হবে।
- ৪উপ-ধারা (৪), সেট-এসাইড: কোনো কর্তৃপক্ষ কর নির্ধারণী আদেশ সেট-এসাইড (বাতিল করে নতুন করে করতে বলা) করলে, সেই আদেশ উপকর কমিশনারকে জানানোর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন কর নির্ধারণ করতে হবে।
- ৫উপ-ধারা (৫) ও (৬), আয় অন্যের ঘাড়ে গেলে: উপরের কোনো আদেশ বা মতৈক্যে কোনো আয় এক করদাতার মোট আয় থেকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তির আয়ে ধরা হলে, সেই অন্য ব্যক্তির করাদেশ একই আদেশের ধারাবাহিকতায় সংশোধিত বা নির্ধারিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে আলাদা সময়সীমার যুক্তিতে এড়ানো যাবে না।
- ৬উপ-ধারা (৭), কর্মকর্তার দায়: উপ-ধারা (৩) এর সময়ের মধ্যে আদেশ দিতে ব্যর্থ হলে তা উপকর কমিশনারের অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
মনে রাখুন
- রিটার্ন প্রসেস, অডিট, কর্মকর্তার কর নির্ধারণ, বিলম্ব রিটার্ন: করবর্ষ শেষের পরের ১২ মাস।
- আর্মস লেংথ প্রাইস (ট্রান্সফার প্রাইসিং): ৫ করবর্ষ।
- ধারা ২১২ এর নোটিশ: নোটিশের করবর্ষ শেষের ১২ মাস (আগে ২ করবর্ষ)।
- আপিল, রিভিশন, আদালত বা ADR এর আদেশ কার্যকর: ৪৫ দিন, তারপর ৩০ দিনে করদাতাকে জানানো।
- সেট-এসাইড হলে নতুন কর নির্ধারণ: ৯০ দিন।
- উপ-ধারা (৩) এর সময় না মানলে কর্মকর্তার অসদাচরণ।
উদাহরণ ১: বিলম্ব রিটার্নের সময়সীমা
- ১করিম করবর্ষ ২০২৬–২৭ এর সময় পার করে করবর্ষ ২০২৭–২৮ এর আগস্ট ২০২৭ এ বিলম্ব রিটার্ন দিলেন। রিটার্ন দাখিলের করবর্ষ ২০২৭–২৮, যা শেষ হয় ৩০ জুন ২০২৮।
- ২তাই উপকর কমিশনারকে ৩০ জুন ২০২৯ এর মধ্যে কর নির্ধারণ শেষ করতে হবে (দফা ঘ)।
উদাহরণ ২: অডিটের সময়সীমা
- ১একটি কোম্পানির রিটার্ন করবর্ষ ২০২৭–২৮ এ অডিটের জন্য বাছাই হলো। সেই করবর্ষ শেষ হয় ৩০ জুন ২০২৮।
- ২অডিটের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ ৩০ জুন ২০২৯ এর মধ্যে শেষ করতে হবে (দফা খ)।
উদাহরণ ৩: আপিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা
- ১আপিলে একজন করদাতা আংশিক জিতলেন; আপিলের আদেশ উপকর কমিশনারকে জানানো হলো ১ মার্চ।
- ২উপকর কমিশনারকে ৪৫ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে, সংশোধিত করাদেশ তৈরি করতে হবে, আর তার পরের ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে জানাতে হবে।
- ৩সময়মতো না করলে তা কর্মকর্তার অসদাচরণ (উপ-ধারা ৭)। করদাতা লিখিতভাবে তাগিদ দিতে পারেন।
উদাহরণ ৪: সেট-এসাইড
- ১ট্রাইব্যুনাল একটি কর নির্ধারণ সেট-এসাইড করে নতুন করে করতে বলল; আদেশ উপকর কমিশনারকে জানানো হলো ১০ জানুয়ারি।
- ২নতুন কর নির্ধারণ ৯০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম ভাগের মধ্যে, শেষ করতে হবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
প্রতিটি কর মামলার জন্য একটি তারিখ-রেজিস্টার রাখুন: রিটার্ন দাখিল, অডিট বাছাই, আপিল আদেশ পৌঁছানোর তারিখ। সময়সীমা পার হওয়ার পর জারি করা আদেশ চ্যালেঞ্জ করার এটাই প্রধান প্রমাণ।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ (২০২৫–২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬: উপ-ধারা (২) এ “বৎসরে” এর বদলে “করবর্ষে”। অর্থ আইন, ২০২৬: উপ-ধারা (১) নতুন করে লেখা (প্রসেস, অডিট, কর্মকর্তার কর নির্ধারণ ও বিলম্ব রিটার্নে ১২ মাস, ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ে ৫ করবর্ষ), উপ-ধারা (২) এ ২ করবর্ষের বদলে ১২ মাস, আর উপ-ধারা (৩), (৪) ও (৫) নতুন করে লেখা (ADR মতৈক্য অন্তর্ভুক্ত, ৪৫ দিন ও সেট-এসাইডে ৯০ দিন)।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
সময়সীমা কর ব্যবস্থায় নিশ্চয়তা (finality) আনে: করদাতা জানেন কবে তার বছরের হিসাব চূড়ান্ত, আর প্রশাসন বাধ্য হয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে। অর্থ আইন, ২০২৬ প্রায় সব ক্ষেত্রে সময় ১২ মাসে নামিয়ে এনেছে এবং ধারা ২১২ এর ২ করবর্ষ থেকে ১২ মাস করেছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তির নীতি। ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ে ৫ করবর্ষ রাখা হয়েছে কারণ আন্তর্জাতিক লেনদেনের তুলনামূলক তথ্য সংগ্রহে সময় লাগে। উচ্চতর আদেশ কার্যকরের ৪৫ দিন আর ব্যর্থতাকে অসদাচরণ গণ্য করা করদাতার জেতা প্রতিকার যেন কাগজে আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
প্রতিটি মামলায় সময়সীমার শেষ তারিখ ফাইলের উপরে লিখে রাখুন। উচ্চতর আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৪৫ দিন (উপ-ধারা ৩) আর সেট-এসাইড প্রাপ্তি থেকে ৯০ দিন (উপ-ধারা ৪) গণনা হয়। উপ-ধারা (৩) এর ব্যর্থতা ব্যক্তিগত অসদাচরণ (উপ-ধারা ৭)।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
সময়সীমা পার হওয়ার পর জারি করা কর নির্ধারণ বা প্রসেসের আদেশ এখতিয়ারবহির্ভূত হিসেবে চ্যালেঞ্জযোগ্য, আর এটা প্রায়ই সবচেয়ে শক্তিশালী আপত্তি। গণনার সূচনা খেয়াল করুন: কোথাও “রিটার্ন দাখিলের করবর্ষ”, কোথাও “অডিট বাছাইয়ের করবর্ষ”, কোথাও “নোটিশ জারির করবর্ষ”, আর উপ-ধারা (৩)–(৪) এ “উপকর কমিশনারকে অবহিতকরণ” এর তারিখ। উপ-ধারা (১) এর তালিকায় ধারা ১৮৩(১)(গ) এর সংশোধিত রিটার্নের আলাদা উল্লেখ নেই; সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়সীমা নিয়ে NBR এর ব্যাখ্যা বা প্রাসঙ্গিক অন্য বিধান দেখুন। নতুন সময়সীমা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর, তাই পুরোনো মামলায় কোন সময়সীমা প্রযোজ্য তা পরিবর্তনকালীন নীতিতে দেখতে হবে।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
ক্লায়েন্ট ফাইলে একটি “limitation tracker” রাখুন: দাখিলের তারিখ ও করবর্ষ, অডিট বাছাইয়ের চিঠির তারিখ, আপিল আদেশ পৌঁছানোর প্রমাণ। প্রতিটি নোটিশ ও আদেশ গ্রহণের তারিখ প্রাপ্তি স্বীকারে লিখুন।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
সময়সীমা শেষ হলে বছরটি সাধারণত চূড়ান্ত, তবে ধারা ২১২ এর মতো ফাঁকি সংক্রান্ত বিধান আলাদাভাবে কাজ করে। তাই নিশ্চিন্ত থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় সময়মতো সঠিক রিটার্ন।
জটিল উদাহরণ: ট্রান্সফার প্রাইসিং
- ১একটি বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানির করবর্ষ ২০২৬–২৭ এর আন্তর্জাতিক লেনদেন নিয়ে আর্মস লেংথ প্রাইস পরিগণনা (ধারা ২৩৫)। করবর্ষ শেষ ৩০ জুন ২০২৭।
- ২এই পরিগণনার জন্য সময় পরের ৫ করবর্ষ, অর্থাৎ ৩০ জুন ২০৩২ পর্যন্ত। তাই ট্রান্সফার প্রাইসিং নথি অন্তত সেই সময় পর্যন্ত গুছিয়ে রাখা দরকার।
জটিল উদাহরণ: আয় অন্যের হাতে
- ১আপিলে সিদ্ধান্ত হলো একটি ভাড়ার আয় স্বামীর নয়, স্ত্রীর। স্বামীর মোট আয় থেকে তা বাদ গেল।
- ২উপ-ধারা (৫) ও (৬) অনুযায়ী স্ত্রীর করাদেশ সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় সংশোধিত বলে গণ্য, তাই স্ত্রীর ক্ষেত্রে “সময় পার হয়ে গেছে” যুক্তি খাটবে না।
সাধারণ ভুল
- সময়সীমা পার হওয়া আদেশও কোনো আপত্তি ছাড়া মেনে নেওয়া।
- আপিলে জেতার পর উপকর কমিশনার সংশোধিত আদেশ না দিলে চুপ থাকা।
- নোটিশ ও আদেশ গ্রহণের তারিখের প্রমাণ না রাখা।
করণীয় চেকলিস্ট
- মামলার ধরন চিহ্নিত করুন: প্রসেস, অডিট, কর্মকর্তার কর নির্ধারণ, বিলম্ব রিটার্ন, ২১২, ট্রান্সফার প্রাইসিং।
- গণনার সূচনা তারিখ বের করুন।
- শেষ তারিখ ক্যালেন্ডারে লিখুন।
- উচ্চতর আদেশে জিতলে ৪৫ দিন পর লিখিত তাগিদ দিন।
প্রশ্নোত্তর
সময়সীমা পার হওয়ার পর আদেশ এলে কী করব?
আদেশটি সময়সীমা-বহির্ভূত হিসেবে আপিলে চ্যালেঞ্জ করা যায়। দাখিল, বাছাই বা আদেশ পৌঁছানোর তারিখের প্রমাণ গুছিয়ে পেশাদারের সাথে আপিলের সময়সীমার মধ্যে আপিল করুন।
আপিলে জিতেছি, কিন্তু সংশোধিত আদেশ আসছে না।
আদেশ উপকর কমিশনারকে জানানোর ৪৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত করাদেশ দেওয়া বাধ্যতামূলক, আর ব্যর্থতা অসদাচরণ (উপ-ধারা ৭)। লিখিত আবেদন দিন, প্রয়োজনে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার বা কর কমিশনারকে জানান।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
