অংশ ১৯: জরিমানা
ধারা ২৬৬ — রিটার্ন, ইত্যাদি দাখিলে ব্যর্থতার জন্য জরিমানা
Income Tax Act, 2023 · Section 266
আইনের মূল পাঠ
২৬৬। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৯১, ১৯৩ বা ২১২ এর অধীন কোনো ব্যক্তি রিটার্ন দাখিল করিতে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ১০% (দশ শতাংশ) হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন, যাহা ন্যূনতম ১ (এক) হাজার টাকা হইবে এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতিদিনের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত জরিমানার পরিমাণ নিম্নবর্ণিত অঙ্ক অতিক্রম করিবে না, যথা:-
(ক) কোনো ব্যক্তি করদাতা, যাহার ইতঃপূর্বে কখনো কর নির্ধারণ হয় নাই, তাহার ক্ষেত্রে ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা;
(খ) কোনো ব্যক্তি করদাতা, যাহার ইতঃপূর্বে কর নির্ধারণ হইয়াছে, তাহার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় করের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) বা ১ (এক) হাজার টাকা, দু’টির মধ্যে যাহা অধিক।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত,
(ক) ধারা ১৭৭ এর অধীন কোনো রিটার্ন, তথ্য দাখিল বা উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর তাহার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ১০% (দশ শতাংশ) হারে অথবা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা, দু’টির মধ্যে যাহা অধিক, সেই পরিমাণ জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে, ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতি মাসের জন্য অথবা তাহার ভগ্নাংশের জন্য ১ (এক) হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন;
(খ) ধারা ১৪৫ এর অধীন কোনো সার্টিফিকেট প্রদান করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে, ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতি মাসের জন্য অথবা তাহার ভগ্নাংশের জন্য ১ (এক) হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন;
(গ) ধারা ২০০ এর আবশ্যকতা অনুযায়ী কোনো তথ্য দাখিল বা উপস্থাপনে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে যে আয়কর কর্তৃপক্ষ ধারা ২০০ এর অধীন তথ্য চাহিয়াছে সেই কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তির উপর ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে, ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতি দিনের জন্য ৫০০ (পাঁচশত) টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া রিটার্ন (ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৯১, ১৯৩, ২১২) না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের করের ১০% (ন্যূনতম ১,০০০ টাকা), আর দেরি চললে প্রতিদিন ৫০ টাকা জরিমানা। তবে আগে কর নির্ধারণ হয়নি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা। উৎসে কর রিটার্ন (১৭৭), উৎসে কর সনদ (১৪৫) বা ধারা ২০০ এর তথ্য না দিলে আলাদা জরিমানা।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১), রিটার্ন না দেওয়া: সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্য করের ১০%, ন্যূনতম ১,০০০ টাকা; ব্যর্থতা চললে প্রতিদিন ৫০ টাকা অতিরিক্ত।
- ২সর্বোচ্চ সীমা (ব্যক্তি করদাতা): (ক) আগে কখনো কর নির্ধারণ হয়নি: ৫,০০০ টাকা; (খ) আগে কর নির্ধারণ হয়েছে: সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের করের ৫০% বা ১,০০০ টাকা, যেটা বেশি।
- ৩উপ-ধারা (২)(ক), উৎসে কর রিটার্ন বা তথ্য (ধারা ১৭৭) না দিলে: সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের করের ১০% বা ৫,০০০ টাকা, যেটা বেশি; চললে প্রতি মাস বা মাসের অংশে ১,০০০ টাকা।
- ৪উপ-ধারা (২)(খ), উৎসে কর কর্তনের সনদ (ধারা ১৪৫) না দিলে: ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত; চললে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা।
- ৫উপ-ধারা (২)(গ), ধারা ২০০ এর তথ্য না দিলে: তথ্য চাওয়া কর্তৃপক্ষ ৫০,০০০ টাকা; চললে প্রতিদিন ৫০০ টাকা।
- ৬জরিমানার আগে শুনানি বাধ্যতামূলক (ধারা ২৮০)। এই ধারার জরিমানায় পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের অনুমোদন লাগে না (ধারা ২৮১)।
মনে রাখুন
- রিটার্ন না দিলে: করের ১০% (ন্যূনতম ১,০০০) + প্রতিদিন ৫০ টাকা।
- নতুন ব্যক্তি করদাতার সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা।
- উৎসে কর রিটার্ন না দিলে: ১০% বা ৫,০০০ (বেশি) + মাসে ১,০০০।
- ধারা ২০০ এর তথ্য না দিলে: ৫০,০০০ + দিনে ৫০০।
উদাহরণ ১: আগে কর নির্ধারণ হয়েছে
- ১করিমের সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর কর ছিল ৪০,০০০ টাকা। এ বছর তিনি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া রিটার্ন দেননি, আর নোটিশের পরও ১০০ দিন দেরি।
- ২মূল জরিমানা = ৪০,০০০ × ১০% = ৪,০০০ টাকা; দৈনিক = ১০০ × ৫০ = ৫,০০০ টাকা; মোট ৯,০০০ টাকা।
- ৩সর্বোচ্চ সীমা = ৪০,০০০ × ৫০% = ২০,০০০ টাকা, তাই ৯,০০০ টাকাই প্রযোজ্য হতে পারে।
উদাহরণ ২: নতুন করদাতা
- ১সুমনের আগে কখনো কর নির্ধারণ হয়নি। দৈনিক জরিমানা যত দিনই চলুক, মোট জরিমানা ৫,০০০ টাকার বেশি হবে না।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
এই জরিমানা ছাড়াও দেরিতে রিটার্নে অতিরিক্ত কর (ধারা ১৭৪) আর বিলম্ব সুদ আসতে পারে। “যুক্তিসঙ্গত কারণ” (অসুস্থতা, দুর্যোগ ইত্যাদি) থাকলে তার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন আর শুনানিতে উপস্থাপন করুন।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
রিটার্ন ও তথ্য সময়মতো দাখিলে প্রশাসনিক চাপ, তবে নতুন বা ছোট ব্যক্তি করদাতার জন্য সীমা রেখে আনুপাতিক রাখা।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
“সর্বশেষ নিরূপিত আয়” না থাকলে (নতুন করদাতা) ১০% এর ভিত্তি থাকে না; সেক্ষেত্রে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা ও দৈনিক জরিমানা, সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা প্রযোজ্য। “যুক্তিসঙ্গত কারণ” বিবেচনা আদেশে লিখিতভাবে উল্লেখ করুন।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
উপ-ধারা (১) এর সীমা শুধু “ব্যক্তি করদাতা” র জন্য; কোম্পানি বা অন্য সত্তার ক্ষেত্রে ধারায় সর্বোচ্চ সীমা নেই। দেরির রিটার্নে ধারা ১৭৪ এর অতিরিক্ত কর আর এই জরিমানা দুটি আলাদা পরিণতি; একসাথে আরোপ যুক্তিযুক্ত কিনা, তা ঘটনাভেদে আপিলে তোলা যায়।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
উৎসে কর রিটার্ন (ধারা ১৭৭) মাসিক বা ত্রৈমাসিক যে সূচিতেই হোক, প্রতিটি দেরির জন্য মাসভিত্তিক ১,০০০ টাকা জমে; উৎসে কর রিটার্নের ক্যালেন্ডার আলাদাভাবে রাখুন।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
