অংশ ১৯: জরিমানা
ধারা ২৭২ — আয় গোপন করিবার জন্য জরিমানা
Income Tax Act, 2023 · Section 272
আইনের মূল পাঠ
২৭২। (১) এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম চলাকালে, কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো ব্যক্তি, উক্ত কার্যক্রমে কিংবা একই আয়বর্ষের কর নির্ধারণ সম্পর্কিত পূর্ববর্তী কোনো কার্যক্রমে তাহার আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয়ের তথ্য বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাহা করদাতার প্রদেয় অঙ্কের সহিত সম্পর্কযুক্ত তাহা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শনের মাধ্যমে এই আইনের অধীন প্রদেয় অঙ্কের ফাঁকি দিয়েছেন, তাহা হইলে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তির ১[ক এর সমপরিমাণ জরিমানা আরোপ করিবে, যেইক্ষেত্রে-
ক = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × খ,
খ = যেই করবর্ষে কর ফাঁকি সংঘটিত হইয়াছে সেই করবর্ষ হইতে উক্ত কর ফাঁকির বিষয়টি যেই করবর্ষে উদঘাটিত হইয়াছে সেই করবর্ষসহ মোট বৎসর]।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক)“কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ” বলিতে-
(অ) কমিশনার পদের নিম্নে নহে এইরূপ আয়কর কর্তৃপক্ষকে বুঝাইবে; এবং
(আ) কর আপিল ট্রাইব্যুনালকে বুঝাইবে;
(খ)“ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক” বলিতে কোনো করবর্ষে গ-ঘ কে বুঝাইবে,
যেইক্ষেত্রে-
গ = যদি আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয় বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসত্য পরিমাণে প্রদর্শন করা না হইত তাহা হইলে কোনো করবর্ষে প্রদেয় কর ও অন্যান্য অঙ্ক,
ঘ = সংশ্লিষ্ট করবর্ষে প্রকৃত পরিশোধিত অঙ্ক।
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৫–২৬“ক এর সমপরিমাণ জরিমানা আরোপ করিবে, যেইক্ষেত্রে- ক = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × খ, খ = যেই করবর্ষে কর ফাঁকি সংঘটিত হইয়াছে সেই করবর্ষ হইতে উক্ত কর ফাঁকির বিষয়টি যেই করবর্ষে উদঘাটিত হইয়াছে সেই করবর্ষসহ মোট বৎসর” শব্দগুলি, চিহ্নগুলি ও সংখ্যাগুলি “ক+খ এর সমপরিমাণ জরিমানা আরোপ করিবে, যেইক্ষেত্রে- ক = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১৫%, খ = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × গ, গ = অসত্য পরিমাণে তথ্য প্রদর্শনের বিষয়টি যেই করবর্ষে সংঘটিত হইয়াছে সেই করবর্ষ হইতে উক্ত অসত্য পরিমাণে তথ্য প্রদর্শনের বিষয়টি যেই করবর্ষে উদঘাটিত হইয়াছে সেই করবর্ষ পর্যন্ত মোট বৎসর” শব্দগুলি, চিহ্নগুলি ও সংখ্যাগুলির পরিবর্তে অর্থ (২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৯ নং আইন) এর ১২৩ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয় বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসত্য দেখিয়ে কর ফাঁকি দিলে জরিমানা = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × বছর সংখ্যা (ফাঁকির করবর্ষ থেকে উদঘাটনের করবর্ষসহ)। জরিমানা আরোপ করবেন কমিশনার বা তার ঊর্ধ্বের কর্তৃপক্ষ, বা আপিল ট্রাইব্যুনাল।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): চলমান বা একই আয়বর্ষের আগের কার্যক্রমে অসত্য পরিমাণ প্রদর্শনে ফাঁকি প্রমাণিত হলে, জরিমানা = ক।
- ২সূত্র: ক = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × খ; খ = ফাঁকির করবর্ষ থেকে উদঘাটনের করবর্ষসহ মোট বছর।
- ৩ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক = গ − ঘ; গ = সত্য তথ্য দিলে যে কর ও অন্যান্য অঙ্ক প্রদেয় হতো, ঘ = প্রকৃত পরিশোধিত অঙ্ক।
- ৪“কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ” = কমিশনারের নিচে নয় এমন আয়কর কর্তৃপক্ষ, বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল।
- ৫অর্থ (২০২৫–২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬: আগে সূত্র ছিল ১৫% স্থির + ১০% × বছর; এখন শুধু ১০% × বছর (উদঘাটনের বছরসহ)।
মনে রাখুন
- জরিমানা = ফাঁকি × ১০% × বছর সংখ্যা।
- বছর গণনা ফাঁকির করবর্ষ থেকে উদঘাটনের করবর্ষসহ।
- কমিশনার বা ট্রাইব্যুনাল আরোপ করবে।
উদাহরণ
- ১২০২৩–২৪ করবর্ষে একজন ব্যবসায়ী বিক্রয় কম দেখিয়ে ৫ লক্ষ টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন; উদঘাটিত হলো ২০২৬–২৭ করবর্ষে।
- ২বছর সংখ্যা (খ) = ২০২৩–২৪, ২০২৪–২৫, ২০২৫–২৬, ২০২৬–২৭ = ৪।
- ৩জরিমানা = ৫,০০,০০০ × ১০% × ৪ = ২,০০,০০০ টাকা; এর সাথে ফাঁকি দেওয়া ৫ লক্ষ টাকা কর তো দিতেই হবে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
ভুল ধরা পড়লে যত দেরি, জরিমানা তত বেশি (প্রতি বছর ১০% করে বাড়ে)। নিজে ভুল বুঝলে কর্তৃপক্ষের আগেই সংশোধিত রিটার্ন (ধারা ১৭৫) দেওয়ার কথা ভাবুন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ (২০২৫–২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬: সূত্র “ক+খ (১৫% + ১০% × বছর)” থেকে “ফাঁকি × ১০% × বছর (উদঘাটনের বছরসহ)”।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
ফাঁকির জরিমানাকে সময়ের সাথে বাড়ানো (প্রতি বছর ১০%), যাতে দীর্ঘদিন লুকানো ফাঁকিতে বেশি মূল্য দিতে হয়। ২০২৫–২৬ এর সংশোধনে স্থির ১৫% অংশ বাদ গেছে, তবে বছর গণনায় উদঘাটনের বছর স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
ফাঁকি প্রমাণে “অসত্য পরিমাণে প্রদর্শন” এর প্রমাণ দরকার; শুধু ব্যাখ্যার পার্থক্য বা আইনগত মতভেদ ফাঁকি নয়। আরোপকারী কর্তৃপক্ষ কমিশনার বা উচ্চতর, অথবা ট্রাইব্যুনাল; উপকর কমিশনার নন।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
সংশোধিত সূত্র কোন কার্যক্রমে প্রযোজ্য (সংশোধনের কার্যকারিতার তারিখের আগের ফাঁকি বা আগে শুরু হওয়া কার্যক্রম) তা নিয়ে বিরোধ হতে পারে; প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকারিতার তারিখ যাচাই করুন। “ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক” এ কর ছাড়াও “অন্যান্য অঙ্ক” (যেমন সারচার্জ) ধরা যায়।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
সময়ের সাথে জরিমানা বাড়ে, তাই ভুল ধরা পড়লে দ্রুত স্বেচ্ছা সংশোধন সবচেয়ে কম খরচের পথ।
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
