অংশ ১৪: আয়কর আদায়, প্রত্যর্পণ ও সমন্বয় · প্রথম অধ্যায়: আয়কর আদায়
ধারা ২১৪ — দাবির নোটিশ
Income Tax Act, 2023 · Section 214
আইনের মূল পাঠ
২১৪। (১) এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের ফলে কোনো পরিমাণ কর প্রদেয় হইলে উপকর কমিশনার, উক্ত করদাতার বরাবর (কর পরিশোধের জন্য দায়ী অন্য কোনো ব্যক্তিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে) কর নির্ধারণী আদেশের একটি কপিসহ উক্ত প্রদেয় করের পরিমাণ, পরিশোধের সময়সীমা এবং পদ্ধতি উল্লেখপূর্বক নির্ধারিত ফরমে একটি দাবির নোটিশ জারি করিবেন।
(২) এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ফেরতযোগ্য হইলে উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত নোটিশে করদাতার নিকট ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ এবং তাহাকে উক্ত অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিবেন, যদি না ধারা ২২৫ এর বিধান অনুসারে এইরূপ ফেরৎ বকেয়া করের বিপরীতে সমন্বয় হয়।
(৩) করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া উপকর কমিশনার কোনো প্রত্যর্পণ সমন্বয় করিবেন না।
(৪) যে করদাতার উপর উপ-ধারা (১) এর অধীন দাবির নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তিনি নোটিশে বর্ণিত পরিশোধের সময় অতিবাহিত হইবার পূর্বে এবিষয়ে উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করিলে, উপকর কমিশনার মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক যেইরূপ প্রয়োজন বিবেচনা করিবেন সেইরূপে পরিশোধের সময়সীমা বর্ধিত করিতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ১[***] শর্তসহ কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত দাবির নোটিশে বর্ণিত সময়ের মধ্যে অথবা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (৪) এর অধীন বর্ধিত সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য অর্থ পরিশোধ করা না হইলে করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে।
(৬) করদাতা আরোপিত কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে অথবা উল্লিখিত করের পরিমাণের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন আপিল পেশ করিলে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উপকর কমিশনার করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করিবেন না।
(৭) করদাতাকে উপ-ধারা (৪) এর অধীন কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের অনুমতি প্রদান করা হইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করদাতা যদি কোনো একটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন তবে তাহাকে উক্ত দিনে অনাদায়ী অর্থের জন্য এবং অন্যান্য কিস্তি বা কিস্তিসমূহের জন্য খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং যে কিস্তিটি পরিশোধে তিনি ব্যর্থ হইয়াছেন উক্ত কিস্তি পরিশোধের জন্য ধার্য দিনই অবশিষ্ট সকল কিস্তি পরিশোধ করিবার কথা ছিল মর্মে গণ্য করা হইবে।
(৮) বাংলাদেশের বাহির হইতে উপার্জিত আয়ের উপর যদি কোনো করদাতার কর নির্ধারণ করা হয় এবং উক্ত দেশ হইতে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ আরোপিত থাকে, তবে এইরূপ নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ আরোপের কারণে যেই পরিমাণ আয় বাংলাদেশে আনয়ন করা সম্ভব হয় নাই সেই পরিমাণ আয়ের উপর আরোপিত আয়করের জন্য, বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ দূরীভুত না হওয়া পর্যন্ত উপকর কমিশনার সংশ্লিষ্ট করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করিবেন না।
(৯) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, একজন করদাতার আয় তখনই বাংলাদেশে আনয়ন করা হইয়াছে মর্মে বিবেচনা করা হইবে, যখন উক্ত আয় বাংলাদেশের বাহিরে করদাতার কোনো প্রকৃত ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যবহৃত হইয়াছে বা হইতে পারিত অথবা তাহা পুঁজি আকারে বা অন্য কোনোভাবে বাংলাদেশে আনয়ন করা হইয়াছে।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
কর নির্ধারণ বা অন্য কোনো আদেশে কর প্রদেয় হলে উপকর কমিশনার আদেশের কপিসহ “দাবির নোটিশ” দেন, যাতে কত টাকা, কবে আর কীভাবে দিতে হবে লেখা থাকে। সময় বাড়ানো বা কিস্তির আবেদন করা যায়। সময়মতো না দিলে খেলাপি করদাতা, তবে আপিল চলাকালে খেলাপি গণ্য করা হয় না।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): প্রদেয় কর হলে কর নির্ধারণী আদেশের কপিসহ নির্ধারিত ফরমে দাবির নোটিশ: করের পরিমাণ, পরিশোধের সময়সীমা ও পদ্ধতি। কর পরিশোধে দায়ী অন্য ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়।
- ২উপ-ধারা (২) ও (৩): কর ফেরতযোগ্য হলে নোটিশেই ফেরতের পরিমাণ ও ব্যবস্থা জানানো হবে, যদি না ধারা ২২৫ অনুযায়ী বকেয়ার সাথে সমন্বয় হয়। শুনানির সুযোগ না দিয়ে ফেরত সমন্বয় করা যাবে না।
- ৩উপ-ধারা (৪): পরিশোধের সময় পার হওয়ার আগে আবেদন করলে উপকর কমিশনার সময় বাড়াতে বা শর্তসহ কিস্তির অনুমতি দিতে পারেন।
- ৪উপ-ধারা (৫) ও (৭): নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়ে না দিলে খেলাপি করদাতা। কিস্তির একটি মিস করলে সেদিনই বাকি সব কিস্তি বকেয়া, আর পুরো অঙ্কের জন্য খেলাপি।
- ৫উপ-ধারা (৬): কর নির্ধারণ বা করের পরিমাণের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খেলাপি গণ্য করা হবে না।
- ৬উপ-ধারা (৮) ও (৯): বিদেশের আয়ের উপর কর হলে, আর সেই দেশ থেকে টাকা আনায় নিষেধাজ্ঞা থাকলে, যে অংশ আনা যায়নি তার করের জন্য নিষেধাজ্ঞা না ওঠা পর্যন্ত খেলাপি গণ্য নয়। তবে সেই আয় বিদেশে খরচে ব্যবহার হলে বা হতে পারলে, বা কোনোভাবে দেশে আনা হলে, আনা হয়েছে বলে ধরা হবে।
মনে রাখুন
- দাবির নোটিশে পরিমাণ, সময়সীমা ও পদ্ধতি থাকে।
- সময় পার হওয়ার আগে আবেদন করলে সময় বৃদ্ধি বা কিস্তি।
- সময়মতো না দিলে খেলাপি; একটি কিস্তি মিস হলে পুরো অঙ্ক বকেয়া।
- আপিল চলাকালে খেলাপি নয়।
- শুনানি ছাড়া ফেরত সমন্বয় নয়।
উদাহরণ: কিস্তিতে পরিশোধ
- ১রাকিবের নামে ৬ লক্ষ টাকার দাবির নোটিশ এলো, পরিশোধের শেষ তারিখ ৩০ দিন পর। তিনি সেই সময়ের মধ্যেই আবেদন করে ৩টি মাসিক কিস্তির অনুমতি পেলেন।
- ২প্রথম কিস্তি দিলেন, কিন্তু দ্বিতীয়টি মিস করলেন। উপ-ধারা (৭) অনুযায়ী সেদিনই বাকি ৪ লক্ষ টাকা পুরোটাই বকেয়া হয়ে গেল, আর তিনি খেলাপি করদাতা গণ্য হলেন।
উদাহরণ: আপিল চলাকালে
- ১একটি কোম্পানি কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। আপিল নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত উপকর কমিশনার কোম্পানিকে খেলাপি করদাতা গণ্য করবেন না (উপ-ধারা ৬)।
- ২তবে আপিল করার জন্য অন্য কোনো বিধানে নির্দিষ্ট অঙ্ক জমার শর্ত থাকলে তা আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
দাবির নোটিশ এলে সময়সীমা পার হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিন: পরিশোধ, কিস্তির আবেদন, না আপিল। সময় পার হলে কিস্তির আবেদনের সুযোগ থাকে না।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ (২০২৫–২০২৬ অর্থ বৎসর) আইন, ২০২৬: কিস্তির শর্ত থেকে “বিলম্ব সুদ পরিশোধের” শব্দ বিলুপ্ত।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
দাবির নোটিশ আদায় প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা: কত, কবে, কীভাবে। কিস্তি ও সময় বৃদ্ধির সুযোগ পরিশোধে সক্ষম কিন্তু তাৎক্ষণিক নগদ সংকটে থাকা করদাতাকে খেলাপি হওয়া থেকে বাঁচায়। আপিল চলাকালে খেলাপি গণ্য না করা ন্যায্যতার নীতি, আর বিদেশি আয়ের স্থানান্তর নিষেধাজ্ঞার সুরক্ষা বাস্তব প্রতিবন্ধকতা স্বীকার করে।
কর কর্মকর্তার দৃষ্টিতে
দাবির নোটিশের সাথে কর নির্ধারণী আদেশের কপি বাধ্যতামূলক। কিস্তি মঞ্জুরের আদেশে প্রতিটি কিস্তির তারিখ স্পষ্ট লিখুন; একটি মিস হলে পুরো বকেয়া হয় (উপ-ধারা ৭)।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
খেলাপি ঘোষণার আগে দেখুন: (১) আদেশের কপিসহ নোটিশ জারি হয়েছিল কিনা; (২) আপিল দায়ের হয়েছে কিনা (উপ-ধারা ৬); (৩) বিদেশি আয়ের স্থানান্তর নিষেধাজ্ঞার সুরক্ষা প্রযোজ্য কিনা। সময় বৃদ্ধি বা কিস্তির আবেদন সময়সীমা পার হওয়ার আগে করতে হয়।
কর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে
বড় দাবিতে আপিল ও পরিশোধ পরিকল্পনা একসাথে করুন। আপিলের যোগ্যতা থাকলে আপিল করুন; নিশ্চিত দায়ের অংশ কিস্তিতে পরিশোধের প্রস্তাব দিন।
সাধারণ ভুল
- সময়সীমা পার করে কিস্তির আবেদন।
- কিস্তি মঞ্জুরের পর একটি কিস্তি মিস করা।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
