অংশ ২৫: বিবিধ
ধারা ৩৩০ — ত্রুটি সংশোধন
Income Tax Act, 2023 · Section 330
আইনের মূল পাঠ
৩৩০। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ অথবা আপিল ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় বা করদাতার লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বা অন্য কোনো উৎসের তথ্যের ভিত্তিতে কোনো আদেশে ত্রুটি দেখিতে পান, সেইক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষ অথবা আপিল ট্রাইব্যুনাল লিখিত আদেশ দ্বারা, উক্তরূপ ত্রুটি সংশোধন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আদেশ জারির তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদ শেষ হইবার পর এই উপ-ধারার অধীন কোনো সংশোধন করা যাইবে না।
১[(২) যেক্ষেত্রে কোনো করদাতা, কোনো করবর্ষের ক্ষেত্রে লিখিত আবেদন দ্বারা, আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনালের জারীকৃত আদেশের ত্রুটি সংশোধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট এই মর্মে দাবি উত্থাপন করেন যে, উক্ত আদেশে এই আইনের অধীন-
(ক) এই ধারার ব্যাখ্যা অংশে উল্লিখিত কোনো ত্রুটি সংঘটিত হইয়াছে; বা
(খ) প্রদেয় করের তুলনায় অতিরিক্ত অঙ্ক পরিশোধ করা হইয়াছে; বা
(গ) করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত কর বা করের কোনো অংশ ক্রেডিট প্রদান করা হয় নাই,
সেইক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনাল করদাতার দাবির বৈধতা এবং সঠিকতা যাচাই করিয়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ত্রুটি সংশোধনপূর্বক আদেশ প্রদান করিবেন।]
(৩) কর নির্ধারণ বৃদ্ধি বা প্রত্যর্পণ হ্রাস বা অন্য কোনোভাবে করদাতার দায় বৃদ্ধি করিতে পারে এইরূপ সংশোধনীর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষসমূহকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো দায় সংশোধন করা যাইবে না।
(৪) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো ত্রুটি করদাতা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করা হইয়াছে এবং উক্ত ত্রুটি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবার পরবর্তী অর্থবৎসরের মধ্যে সংশোধন করা না হয়, সেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারার অধীন ত্রুটি সংশোধন করা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং তদনুসারে এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হইবে।
(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্মের অংশীদারের কর নির্ধারণের পর উক্ত ফার্মের কর নির্ধারণ অনুসারে বা ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯, ২৯২, ২৯৪, ২৯৫ বা ৩০৪ এর অধীন ফার্মের আয় হ্রাস বা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এইরূপ পরিদৃষ্ট হয় যে, ফার্মের লাভ বা লোকসানের অংশ উহার অংশীদারের আয় নির্ধারণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই বা অন্তর্ভুক্ত হইলেও উহা সঠিকভাবে হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উক্ত কর নির্ধারণে অংশীদারের শেয়ারের, ক্ষেত্রমত, অন্তর্ভুক্তি বা সংশোধনী এইরূপভাবে সম্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই ধারার অধীন রেকর্ড সাপেক্ষে ত্রুটি সংশোধন করা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি তদনুসারে কার্যকর হইবে।
(৬) যেইক্ষেত্রে ধারা ২১২ এর অধীন গৃহীত কার্যধারার ফলস্বরূপ, কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের বিবেচনায় ফার্মের অংশীদারের বা, ক্ষেত্রমতে, ব্যক্তিসংঘের সদস্যের মোট আয় পরিগণনা করা প্রয়োজন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এইরূপ ক্ষেত্রে মোট আয় পরিগণনা করিতে পারিবে না এবং উক্ত পরিগণনার ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন যেন উক্ত পরিগণনা এই ধারার অধীন রেকর্ড সাপেক্ষে ত্রুটি সংশোধন করা হইয়াছে এবং উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি তদনুসারে কার্যকর হইবে।
২[ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “ত্রুটি” অর্থ আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জারীকৃত আদেশে করদাতার দাখিলকৃত অথবা প্রাপ্ত রেকর্ড হইতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় এইরূপ কোনো গাণিতিক ত্রুটি, করণিক ত্রুটি বা তথ্যগত ত্রুটি।]
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনাল নিজে, করদাতার আবেদনে বা অন্য তথ্যে কোনো আদেশে স্পষ্ট ত্রুটি (গাণিতিক, করণিক বা তথ্যগত) পেলে আদেশ জারির ৪ বছরের মধ্যে সংশোধন করতে পারে। করদাতা ত্রুটি জানানোর পর পরবর্তী অর্থবছরে সংশোধন না হলে সংশোধিত গণ্য। দায় বাড়ানোর আগে শুনানি লাগবে।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): নিজ উদ্যোগে, করদাতার লিখিত আবেদনে বা অন্য উৎসের তথ্যে লিখিত আদেশে সংশোধন; আদেশ জারির ৪ বছর পর নয়।
- ২উপ-ধারা (২), করদাতার দাবি (অর্থ আইন, ২০২৬): (ক) ব্যাখ্যায় বর্ণিত ত্রুটি; (খ) প্রদেয়ের চেয়ে বেশি পরিশোধ; (গ) পরিশোধিত করের ক্রেডিট না দেওয়া। কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সংশোধন আদেশ দেবেন।
- ৩উপ-ধারা (৩): কর বাড়ানো, ফেরত কমানো বা দায় বাড়ানোর সংশোধনে শুনানি বাধ্যতামূলক।
- ৪উপ-ধারা (৪): করদাতা ত্রুটি জানানোর পরবর্তী অর্থবছরের মধ্যে সংশোধন না হলে সংশোধিত গণ্য।
- ৫উপ-ধারা (৫) ও (৬): ফার্মের আয় বদলালে অংশীদারের কর নির্ধারণে তার অংশ অন্তর্ভুক্তি বা সংশোধন এই ধারার সংশোধন হিসেবে গণ্য; ধারা ২১২ এর কার্যধারার পরও একইভাবে।
- ৬ব্যাখ্যা (অর্থ আইন, ২০২৬): “ত্রুটি” মানে আদেশে এমন গাণিতিক, করণিক বা তথ্যগত ভুল যা দাখিল করা বা প্রাপ্ত রেকর্ড থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
মনে রাখুন
- স্পষ্ট গাণিতিক, করণিক বা তথ্যগত ত্রুটি সংশোধনযোগ্য।
- সময়সীমা: আদেশ জারির ৪ বছর।
- বাড়তি পরিশোধ বা ক্রেডিট না দেওয়াও সংশোধনের বিষয়।
- জানানোর পরের অর্থবছরে সংশোধন না হলে সংশোধিত গণ্য।
উদাহরণ
- ১কর নির্ধারণ আদেশে একজন করদাতার উৎসে কর ক্রেডিট ১,২০,০০০ টাকার জায়গায় ১২,০০০ টাকা লেখা হয়েছে (করণিক ভুল)। করদাতা ২০২৬ সালের আগস্টে লিখিতভাবে জানালেন।
- ২জানানো হয়েছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে, তাই পরবর্তী অর্থবছর (২০২৭–২৮, অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৮) শেষ হওয়ার মধ্যে সংশোধন না হলে আদেশটি সংশোধিত গণ্য (উপ-ধারা ৪)।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
ত্রুটি সংশোধনের আবেদন লিখিতভাবে দিন, প্রাপ্তিস্বীকার রাখুন আর প্রমাণ (চালান, সনদ, গণনা) সংযুক্ত করুন। আইনের ব্যাখ্যায় মতভেদ “ত্রুটি” নয়; সেজন্য আপিল লাগবে।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬: উপ-ধারা (২) প্রতিস্থাপিত আর “ত্রুটি” এর ব্যাখ্যা যোগ।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
স্পষ্ট ভুল দ্রুত সংশোধনের সহজ পথ, আপিল ছাড়াই। ২০২৬ এর ব্যাখ্যা “ত্রুটি” কে রেকর্ড থেকে স্পষ্ট গাণিতিক, করণিক বা তথ্যগত ভুলে সীমিত করেছে, আর করদাতার দাবির ভিত্তি (বেশি পরিশোধ, ক্রেডিট না দেওয়া) স্পষ্ট করেছে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
বিতর্কযোগ্য আইনি প্রশ্ন বা দীর্ঘ যুক্তির প্রয়োজন হয় এমন বিষয় “স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান” ত্রুটি নয়, তাই সেখানে আপিল লাগবে। উপ-ধারা (৪) এর “গণ্য সংশোধন” করদাতার পক্ষে শক্তিশালী, তবে আবেদনের তারিখ ও বিষয়বস্তুর প্রমাণ জরুরি। উপ-ধারা (৬) এ “মোট আয় পরিগণনা করিতে পারিবে না” লেখা, যা প্রসঙ্গের সাথে মেলে না (“পারিবে” হওয়ার কথা বলে মনে হয়); খসড়ার অসংগতি হিসেবে বিবেচ্য।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
ক্রেডিট বা বেশি পরিশোধের দাবিতে চালান, উৎসে কর সনদ আর ব্যাংক প্রমাণ সংযুক্ত করুন; আপিল কর্তৃপক্ষ কারণসহ আদেশ না দিলে (ধারা ২৮৯(৮), ২৯২(৭)) এই ধারায় আবেদন করা যায়।
সাথে পড়ুন
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
