অংশ ১২: তথ্য সংগ্রহ · দ্বিতীয় অধ্যায়: জরিপ, তল্লাশি ও জব্দ
ধারা ২০৭ — জব্দকৃত রেকর্ড, অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রী কর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর ও সংরক্ষণ
Income Tax Act, 2023 · Section 207
আইনের মূল পাঠ
২০৭। ১[(১) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপকর কমিশনার পৃথক ব্যক্তি হন তাহা হইলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তাহা যে তারিখে জব্দ করা হয় সেই তারিখ হইতে ৩ (তিন) দিনের মধ্যে জব্দ তালিকাসহ তাহা উক্ত ব্যক্তির উপর কর্তৃত্বসম্পন্ন উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করিবেন।]
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকর কমিশনারকে পৃথক ব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হইবে, যদি যে ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো ২[রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু] জব্দ করা হয় সেই ব্যক্তির উপর অনুমোদিত কর্মচারীর কোনো কর্তৃত্ব না থাকে।
(৩) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকর কমিশনার একই ব্যক্তি হন, তবে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ৩[রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু] যেই তারিখে জব্দ করা হয় উক্ত তারিখে তাহা উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
(৪) যখন কোনো ব্যক্তির ৪[রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু] অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে জব্দ করা হয় সেইক্ষত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্তরূপ জব্দকৃত বিষয়বস্তু উক্ত ব্যক্তির উপর কর্তৃত্বসম্পন্ন উপকর কমিশনারের নিকট তাহা জব্দ করিবার তারিখের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে হস্তান্তর করিবেন।
৫[(৫) উপকর কমিশনার কোনো ব্যক্তির জব্দকৃত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু কর কমিশনারের কার্যালয়ের মহাফেজখানায় সংরক্ষণের নিমিত্তে কর কমিশনারের নিকট সোপর্দ করিবেন।
(৬) জব্দকৃত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু মহাফেজখানায় সংরক্ষণের কার্যক্রম ও পদ্ধতি Bengal Records Manual, 1943 দ্বারা পরিচালিত হইবে।
(৭) এই ধারায় উল্লিখিত সকল কার্যক্রম মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল), পরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) এবং কর কমিশনার (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট) একইভাবে পরিচালনা করিতে পারিবেন।]
সংশোধনী টীকা
- ১২০২৬–২৭উপ-ধারা (১) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১২০(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ২২০২৬–২৭“রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু” শব্দগুলি ও কমাগুলি “হিসাব বহি বা দলিলাদি” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১২০(গ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৩২০২৬–২৭“রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু” শব্দগুলি ও কমাগুলি “আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১২০(ঘ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৪২০২৬–২৭“রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু” চিহ্নগুলি ও শব্দগুলি “আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ” শব্দগুলির পরিবর্তে অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১২০(ঙ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
- ৫২০২৬–২৭উপ-ধারা (৫), (৬) ও (৭) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১২০(চ) ধারাবলে সংযোজিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
তল্লাশিতে জব্দ করা রেকর্ড, টাকা, গহনা ইত্যাদি কোথায় যাবে আর কত দিনে, তা এই ধারায়। ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর করদাতার উপকর কমিশনার আলাদা হলে ৩ দিনের মধ্যে জব্দ তালিকাসহ হস্তান্তর। অন্য কারো কাছ থেকে জব্দ হলে ৩০ দিনের মধ্যে। শেষে কর কমিশনারের অফিসের মহাফেজখানায় সংরক্ষণ।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১উপ-ধারা (১): ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর উপকর কমিশনার আলাদা হলে জব্দের তারিখ থেকে ৩ দিনের মধ্যে জব্দ তালিকাসহ উপকর কমিশনারের কাছে হস্তান্তর।
- ২উপ-ধারা (২) ও (৩): সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কর্তৃত্ব না থাকলে তারা আলাদা ব্যক্তি গণ্য। একই ব্যক্তি হলে জব্দের দিনই হস্তান্তর হয়েছে বলে গণ্য।
- ৩উপ-ধারা (৪): কোনো ব্যক্তির জিনিস অন্য কারো কাছ থেকে জব্দ হলে ৩০ দিনের মধ্যে সেই ব্যক্তির উপকর কমিশনারের কাছে হস্তান্তর।
- ৪উপ-ধারা (৫) ও (৬): উপকর কমিশনার জব্দ মালামাল কর কমিশনারের কার্যালয়ের মহাফেজখানায় সংরক্ষণের জন্য সোপর্দ করবেন; সংরক্ষণের পদ্ধতি Bengal Records Manual, 1943 অনুযায়ী।
- ৫উপ-ধারা (৭): CIC এর মহাপরিচালক ও পরিচালক এবং কর কমিশনার (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট) একইভাবে এই কার্যক্রম চালাতে পারেন।
মনে রাখুন
- আলাদা কর্মকর্তা হলে ৩ দিনে হস্তান্তর।
- অন্যের কাছ থেকে জব্দ হলে ৩০ দিনে।
- সংরক্ষণ কর কমিশনারের মহাফেজখানায়।
উদাহরণ
- ১CIC এর একজন কর্মকর্তা ১০ তারিখে একজন ঢাকার ব্যবসায়ীর অফিস থেকে নগদ টাকা ও খাতা জব্দ করলেন। ব্যবসায়ীর কর নির্ধারণ হয় একটি সার্কেলে, যার উপকর কমিশনার আলাদা ব্যক্তি।
- ২তাই ১৩ তারিখের মধ্যে জব্দ তালিকাসহ মালামাল সেই উপকর কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যিনি তা কর কমিশনারের মহাফেজখানায় সংরক্ষণে দেবেন।
সাম্প্রতিক পরিবর্তন
অর্থ আইন, ২০২৬: উপ-ধারা (১) নতুন করে লেখা (৩ দিন, জব্দ তালিকাসহ), রেকর্ডের সাথে অর্থ, ধাতু, গহনা ও মূল্যবান সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত, আর নতুন উপ-ধারা (৫), (৬) ও (৭)।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
জব্দ মালামালের শৃঙ্খল (chain of custody) নিশ্চিত করা: দ্রুত হস্তান্তর (৩ দিন), তালিকাসহ, আর আনুষ্ঠানিক মহাফেজখানায় সংরক্ষণ। এতে মালামাল হারানো বা বদলের অভিযোগ কমে।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
হস্তান্তরের সময়সীমা ও জব্দ তালিকার ধারাবাহিকতা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; বিলম্ব বা তালিকায় অমিল প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
