অংশ ১৬: আন্তর্জাতিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা · দ্বিতীয় অধ্যায়: অব্যাহতি ও বৈদেশিক কর ক্রেডিট
ধারা ২৪৬ — বাংলাদেশের বাহিরে অর্জিত আয়ের জন্য অব্যাহতি
Income Tax Act, 2023 · Section 246
আইনের মূল পাঠ
২৪৬। যদি কোনো ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশে বসবাস করেন তাহার যেকোনো বৎসরের আয়ের ক্ষেত্রে সন্তোষজনকভাবে উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত বৎসরের মধ্যে তাহার উক্ত আয় বাংলাদেশের বাহিরে উদ্ভূত বা অর্জিত হইয়াছে সেই আয়ের জন্য তিনি কর্তন বা অন্য কোনোভাবে এইরূপ দেশে কর প্রদান করিয়াছেন যাহার সহিত অব্যাহতি বা দ্বৈত কর পরিহারের জন্য পারস্পরিক চুক্তি নাই, সেইক্ষেত্রে এইলক্ষ্যে উপকর কমিশনার বিদ্যমান বিধানাবলির নিরিখে বাংলাদেশে প্রচলিত করের গড় হার বা উক্ত দেশে প্রচলিত করের গড় হার, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সেই হিসাবে এইরূপ দ্বৈত কর আরোপিত আয়ের উপর কর নিরূপণ করিবেন এবং তাহা বাংলাদেশে পরিশোধ যোগ্য কর হইতে বাদ দিবেন।
ব্যাখ্যা।– “করের গড় হার” বলিতে মোট আয়ের উপর নিরূপিত করকে এইরূপ আয় দিয়া ভাগ করিয়া প্রাপ্ত হারকে বুঝাইবে।
সহজ ভাষায় বুঝুন
মেন্টরের নোট · Unidara Associates
বাংলাদেশে বসবাসকারী কেউ এমন দেশ থেকে আয় করে সেখানে কর দিলে, যে দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বৈত কর চুক্তি নেই, তাহলে বাংলাদেশের গড় করহার বা সেই দেশের গড় করহার, যেটা কম, সেই হারে ওই দ্বৈত-করযোগ্য আয়ের কর হিসাব করে বাংলাদেশের প্রদেয় কর থেকে বাদ দেওয়া হবে (একতরফা লাঘব)।
ধাপে ধাপে বুঝি
- ১কার জন্য: বাংলাদেশে বসবাসকারী ব্যক্তি, যার আয় বাংলাদেশের বাইরে উদ্ভূত বা অর্জিত, আর যিনি সেই আয়ে এমন দেশে কর দিয়েছেন যার সাথে চুক্তি নেই।
- ২কত লাঘব: দ্বৈত-করযোগ্য আয় × (বাংলাদেশের গড় করহার বা সেই দেশের গড় করহার, যেটা কম)। এই অঙ্ক বাংলাদেশের প্রদেয় কর থেকে বাদ।
- ৩“করের গড় হার” = মোট আয়ের উপর নিরূপিত কর ÷ মোট আয়।
- ৪শর্ত: উপকর কমিশনারকে সন্তোষজনকভাবে দেখাতে হবে যে বিদেশে কর দেওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন
- চুক্তি নেই এমন দেশের আয়েও লাঘব (একতরফা)।
- দুই দেশের গড় করহারের মধ্যে কমটি ধরে।
- বিদেশে কর পরিশোধের প্রমাণ লাগবে।
উদাহরণ
- ১আরিফ বাংলাদেশে নিবাসী। চুক্তি নেই এমন একটি দেশ থেকে তার পরামর্শ আয় ৫ লক্ষ টাকা, সেখানে কর কাটা হয়েছে ৭৫,০০০ টাকা (গড় হার ১৫%)।
- ২বাংলাদেশে তার মোট আয় ২০ লক্ষ টাকা (এই ৫ লক্ষসহ), মোট কর ২,০০,০০০ টাকা, অর্থাৎ বাংলাদেশের গড় হার ১০%।
- ৩কম হার ১০%, তাই লাঘব = ৫ লক্ষ × ১০% = ৫০,০০০ টাকা। বাংলাদেশে প্রদেয় কর ২,০০,০০০ − ৫০,০০০ = ১,৫০,০০০ টাকা।
প্র্যাকটিশনারের পরামর্শ
বিদেশে কর কাটার সনদ বা বিদেশি রিটার্ন ও কর পরিশোধের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন, আর বিদেশি মুদ্রায় হলে রূপান্তরের হার কাগজে রাখুন।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ
নীতি, প্রশাসন, আইন ও হিসাব, চার দিক থেকে
নীতিগত উদ্দেশ্য: আইনটা কেন এমন
চুক্তি না থাকা দেশের আয়েও দ্বৈত করের বোঝা কমানো (একতরফা লাঘব), তবে দুই দেশের গড় হারের কমটিতে সীমিত, যাতে বাংলাদেশের রাজস্বের চেয়ে বেশি লাঘব না হয়।
হিসাবরক্ষক ও CA এর দৃষ্টিতে
দুই দেশের গড় করহার আলাদাভাবে হিসাব করুন: বাংলাদেশের গড় হার = মোট কর ÷ মোট আয়; বিদেশের গড় হার বিদেশি রিটার্ন বা কর্তনের সনদ থেকে। দ্বৈত-করযোগ্য আয় দুই দেশের হিসাবে একই ভিত্তিতে মাপুন।
আয়কর আইনজীবীর দৃষ্টিতে
শর্ত হলো চুক্তি না থাকা; চুক্তি থাকলে ধারা ২৪৭ প্রযোজ্য। “বাংলাদেশে বসবাস করেন” এর অর্থ নিবাসী অবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখুন।
এই বিশ্লেষণ Unidara Associates এর শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা, NBR এর দাপ্তরিক মত নয়। আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে পরামর্শ নিন।
